নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
পটিয়ায় ভারত থেকে আমদানিকৃত ক্রুড লবণ কালোবাজারে বিক্রি
তদন্তে দুদকের টিম
পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী
ভারত থেকে আমদানিকৃত অপরিশোধিত ক্রুড লবণ প্রক্রিয়াজাত করার আগেই চট্টগ্রামের পটিয়া ইন্দ্রপোল লবণ শিল্পের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কালোবাজারে বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখানকার মিলগুলোর নামে এলসিকৃত ক্রুড লবণ তাদের কারখানায় পৌঁছার আগেই একটি প্রভাবশালী মহল তা কালোবাজরে পাচার করে দিয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর গত বুধবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে একটি টিম পটিয়া ইন্দ্রপোল লবণ শিল্প নরীর কারখানাগুলো পরিদর্শন করে এর সত্যতা পায়। দুদক পরিচালক চাঁন্দখালী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজসহ অন্যান্য সল্ট রিফাইনারি কারখানাকে লবণ গুদামে উঠিয়ে ক্রাসিং পর বাজারজাত করার নির্দেশ দিয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও লবণ মিল মালিকসূত্রে জানা গেছে বাংলাদেশ আমদানি রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রণের দফতর কর্তৃক সরকার ভারত থেকে অপরিশোধিত লবণ আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পটিয়া জোনের ৪২টি লবণ মিল অনুমতি পায় সূত্র জানাই। প্রত্যেক লবণ মিল ২ হাজার ১৫৫.১৭ মে টন লবণ আমদানির সুযোগ পায়। আমদানি শেষে লবণ মিল মালিকদের প্রতি কেজি অপরিশোধিত লবণের মূল্য পড়ে ৩ টাকা। পরিশোধের পর প্যাকিং ও বাজারজাত খরচ পড়ে ৬ টাকা। খুচরা বাজারে এ লবণ ১০-১২ টাকা বিক্রয় করা সম্ভব। দেশের চামড়া শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্প বাঁচিয়ে রাখতে লবণের দাম বৃদ্ধি না হওয়ার জন্য বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ভর্তুকি দিয়ে এলসির মাধ্যমে এ লবণ ভারত থেকে আমদানি করছে। কিন্তু এদেশে কিছু অসাধু লবণ মিল মালিক ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কারসাজি করে লবণ কালোবাজারে বিক্রিসহ দেশে লবণের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যার ফলে বর্তমানে বাজারে সর্বোচ্চ ৪০ ও সর্বনিম্ন ২০ টাকা করে লবণ বিক্রয় হচ্ছে। এতে চামড়া শিল্পে ধস নেমে এসেছে। গেল কুরবানির সময় পশুর চামড়া পানির দরে ক্রয় করে গরিবের হকের উপর আঘাত হানে। সূত্র জনায়, পটিয়া লবণ শিল্পের মডার্ন সল্ট ক্রাসিং ইন্ডাস্ট্রিজ, দীন সল্ট, জালালাবাদ সল্ট, শাহাচান্দ সল্ট, মোতাহের সল্টসহ ১০/১২টি মিল মালিকের বিরুদ্ধে আমদানিকৃত লবণ কারখানায় না তুলে কালোবাজারে বিক্রয় করার অভিযোগ রয়েছে।

দুদক উপ-পরিচালক ফরিদ আহমদ জানায়, পটিয়া ইন্দ্রপোল লবণ শিল্পে সরকারের আমদানিকৃত বন্ধ মিলের নামে এলসি করা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও আমদানিকৃত লবণ কালোবাজারে বিক্রয়ের অভিযোগ পেয়ে তিনি তদন্তে গিয়ে মিল পরিদর্শন করেন। অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, অনেকে এলসি'র মাল মিলের গুদামে তোলেনি। তিনি মিল মালিকদের আমদানিকৃত লবণ কারখানায় তুলে পরিশোধনের মাধ্যমে বাজারজাতের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে বিসিক কর্মকর্তাকে মনিটরিং করার জন্য বলেন। এর মধ্যে কোনো অনিয়ম হলে মিল মালিকের লাইসেন্স বাতিলের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে পটিয়া ইন্দ্রপোল লবণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক জানান, কিছু কিছু মিল মালিক সময়মতো এলসি লবণ গুদামে তোলেনি। তারা এগুলো শিঘ্রই গুদামে তুলবেন। তবে কালোবাজারে বিক্রয়ের বিষয়টি সত্য নয়।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত