নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
কালিগঞ্জের তারালী ইউপি চেয়ারম্যানের মহানুভবতায় নতুন ঠিকানা পেল বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ২ নারী
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) থেকে আহাদুজ্জামান আহাদ
দীর্ঘ ১২ বছর কারাবাসের পর অবশেষে তারালী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোটর মহানুভবতায় সাতক্ষীরা কারাগার থেকে মুক্তি পেল বুদ্ধি প্রতিবন্ধী দুই নারী। তাদের নতুন ঠিকানা এখন বরেয়া আশ্রায়ন প্রকল্পে।

তারালী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট জানান, সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা এলাকায় ভিক্ষা করতে গেলে স্থানীয় জনতা ২০০৫ সালে ছেলেধরা সন্দেহে বরকতি (৫০) ও রাশিদাকে (৪৮) পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। নিজ পরিচয় বা ঠিকানা সঠিকভাবে ব্যক্ত করার মতো মানসিক সামর্থ্য ছিল না তাদের। এঘটনায় মামলা হয় বরকতি ও রাশিদার বিরুদ্ধে। বিজ্ঞ বিচারকের রায়ে ১৪ বছর কারাবাসের সাজা হয় ঐ দু'জনের। সাজা শেষ হলে একেক সময় একেক রকম পরিচয় প্রদান করায় বিভ্রান্তিতে পড়ে কারাগার কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ঐ দুই নারী নিজেদের তারালী ইউনিয়নের বাসিন্দা হিসেবে জানালে সাতক্ষীরার জেল সুপার আবু জাহেদ ও জেলর তুহিন কান্তি খান তার সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু জেলা কারাগারে যেয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী বরকতি ও রাশিদাকে তারালী ইউনিয়নের বাসিন্দা হিসেবে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তারপরও বরকতি ও রাশিদার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের বিষয়টি চিন্তা করে মাসখানের আগে দু'জনের দায়িত্ব নিতে সম্মত হন ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট।

ঠিকানাহীন বরকতি ও রাশিদার বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বরেয়া আশ্রায়ন প্রকল্পে দু'টি ঘর, একটি রান্না ঘর, একটি টয়লেট নির্মাণ করা হয়। সেই সাথে ব্যবস্থা করা হয় খাদ্যদ্রব্য, হাড়ি-পাতিল, আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের। অবশেষে ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট, ইউপি সদস্য যথাক্রমে শহিদুল ইসলাম, এনামুল কবির, বাবুল আক্তার, সেলিনা খাতুন ও কবির হোসেনসহ কয়েকজন মিডিয়াকর্মী গত রোববার সকালে জেলা কারাগার থেকে বরকতি ও রাশিদার দায়িত্ব বুঝে নিয়ে পৌঁছে দেন তাদের নতুন ঠিকানা বরেয়া আশ্রায়ন প্রকল্পে।

ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট আরও জানান, তিনি প্রখ্যাত সুফী সাধক পীর-এ-কামেল হজরত খান বাহাদুর আহছান উল্লার (র.) অনুসারী হিসেবে তার মূলমন্ত্র 'স্রষ্টার এবাদত, সৃষ্টের সেবা' এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে এবং 'মানুষ মানুষের জন্য' এই সামাজিক দায়িত্ব বোধ থেকে তিনি দু'জন হতভাগ্য নারীকে নিজ দায়িত্বে নিজ খরচে আবাসস্থল তৈরি করে দিয়েছেন। তাদের দেখাশুনা ও ভবিষ্যৎ ভরণপোষণের জন্য সমাজের বিত্তবান দানশীল ব্যক্তিবর্গকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে তারালী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট মানসিক প্রতিবন্ধী দুই অসহায় নারীকে নতুন ঠিকানা ও বেঁচে থাকার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়ায় তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত