নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
দিল্লী টেস্ট ড্র
স্পোর্টস ডেস্ক
এ এমনই এক ম্যাচ, যেখানে যেকোনো একটি দল জিতলে সেটা অন্যায় হয়ে যায়। কী ছিল না ম্যাচে? রেকর্ড ভেঙেচুরে ফেলা সেঞ্চুরি, ডাবল সেঞ্চুরি। পেসারদের দাপট, স্পিনারদের শাসন এবং অবশ্যই মাস্ক। দূষণে বিপর্যস্ত দিলি্ল ক্রিকেট মাঠে মাস্ক নিয়ে খেলতে দেখার সুযোগও করে দিল ক্রীড়ামোদীদের। এ ম্যাচে শুধু এক দল জেতে কীভাবে! ৪১০ রানের লক্ষ্য ছোটা শ্রীলঙ্কা ৫ উইকেটে ২৯৯ রান করার পর দুই পক্ষই সমতা মেনে নিয়ে করমর্দন করে নিয়েছে। ক্রিকেট খেলাটি এ কারণেই এত মজার। না হলে যেসব কা- হলো, তাতে এ ম্যাচ শেষে এমন সৌহার্দ্য বিনিময় দেখার কথা ভাবতে কষ্ট হতে পারত। একদিকে ভারতের ব্যাটসম্যানরা রানের পাহাড় গড়ছেন। অন্যদিকে দিলি্লর দূষিত বায়ুর শিকার হয়ে নানা রকম কা-কীর্তি দেখাচ্ছেন শ্রীলঙ্কানরা। একবার মাঠে মাস্ক পরে নামছেন ৬-৭ জন ফিল্ডার। একবার তাদের পেসাররা বমি করছেন। কেউবা অস্বস্তিতে ভুগে মাঠ ছাড়ছেন। ভারতের সমর্থকেরা আবার এর পেছনে অন্য কারণ খুঁজছেন, তাঁদের দেশের অপমান হিসেবে দেখছেন সবকিছু।

সেটা প্রমাণ করতেই যেন সেই দূষিত বাতাসেই শ্বাস নেওয়া ইশান্ত শর্মা ও মোহাম্মদ শামি গতির ঝড় তুললেন। শর্ট বলে ব্যতিব্যস্ত করলেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংকে। তবে শ্রীলঙ্কা যেন পঞ্চম দিনের জন্য সব শক্তি জমিয়ে রেখেছিল। না হলে কোহলিদের ব্যাটে পিষ্ট, ইশান্তদের বোলিংয়ে ক্লিষ্ট আর দূষণে কাহিল শ্রীলঙ্কার সামনে পরাজয়ই চোখ রাঙাচ্ছিল। ৩ উইকেটে মাত্র ৩১ রান তুলে চতুর্থ দিন শেষ করেছিল তারা। ৩৫ রানেই শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতম খেলোয়াড়টিও ফিরে গেলেন। রবীন্দ্র জাদেজার বলে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের বিদায়ের পর শ্রীলঙ্কার হারের ব্যবধান ৩০০ হয় কি না, সে প্রশ্নও জাগছিল। তখন টেস্ট ক্রিকেটের সব সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হলো ধোঁয়াশামাখা দিলি্ল। না হলে প্রথম ইনিংসে বাজে ব্যাটিংয়ের জন্য গাভাস্কারের ভর্ৎসনা জুটেছিল যাঁর, সেই ধনঞ্জয়া ডি সিলভা এমন ব্যাটিং করেন! প্রথমে অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমালকে নিয়ে ব্যাটিং লাইনআপের বালির বাঁধে সিমেন্ট লাগালেন। পঞ্চম উইকেটে ১১২ রান তুললেন দুজন। ১৪৭ রানে চান্ডিমালের (৩৬) বিদায়ের রোশান সিলভাকে নিয়ে ধনঞ্জয়া নিশ্চিত করলেন, আর যাই হোক, চা বিরতির আগে ম্যাচ শেষ হচ্ছে না। এর মাঝেই নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি পেয়ে গেছেন।

এরপরই আরেকটা নাটক। ১১৯ রান ব্যাট করতে থাকা ধনঞ্জয়া অস্বস্তি বোধ করায় আহত অবসর হয়ে মাঠ ছাড়লেন। দলের রান তখন সবে দুই শ ছুঁয়েছে। এরপরও ম্যাচ হারতে পারত শ্রীলঙ্কা। কিন্তু এবার দায়িত্ব বুঝে নিলেন রোশান (৭৪*)। নিরোশান ডিকভেলাকে (৪৪*) নিয়ে এমনভাবে ব্যাট করলেন বোঝাই যায়নি, এটাই তাঁর অভিষেক ম্যাচ, আর অভিষেক ইনিংসে শূন্যও করেছিলেন। বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করে ভারতীয় ফিল্ডাররাও অবদান রাখলেন শ্রীলঙ্কার এ লড়াইয়ে।

রোশান-ডিকভেলার হার না মানা ৯৪ রানের জুটিটাই বিরাট কোহলিকে বাধ্য করল ড্র মেনে নিতে। তিন টেস্টের সিরিজ তাই ১-০তে জিতেই সন্তুষ্ট হতে হলো ভারতকে। ভারতের মাঠে একই সিরিজে দুটো টেস্ট ড্র করাকেও সাফল্য হিসেবে ধরে নেবে এখন যেকোনো দল! এই ভারত অপ্রতিরোধ্য বলে শ্রীলঙ্কার তৃপ্তিটা বাড়বে। তারা তো শুধু ভারতের সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়নি, হারিয়েছে আসলে দূষণকেও!

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত