নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
যশোরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
জনতা ডেস্ক
যশোরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার যশোর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করা হয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোরের বাঘারপাড়ার হুলিহট্ট, প্রেমচারা, নরসিংহপুর ও উত্তর চাঁদপুর গ্রামে লুটতরাজ অগি্নসংযোগ, হত্যা, হত্যার চেষ্টা ও গুমের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা হয়েছে। হুলিহট্ট গ্রামের মৃত আবদুল হাকিমের ছেলে আবু তাহের বাদী হয়ে এ মামলা করেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. শাজাহান আলী অভিযোগটি আমলে নিয়ে তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার বরাবর প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার কাজী রেফাত রেজওয়ান সেতু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আসামিরা হলো, হুলিহট্ট গ্রামের মৃত ওলিউল্লাহর ছেলে ফয়েজ আহম্মেদ, মৃত এলাহী বকশের ছেলে হাফিজুর রহমান, মৃত বরকতউল্লাহর ছেলে আবদুল কাদের বাবু, নরসিংহপুর গ্রামের মৃত আলীম বিশ্বাসের ছেলে গাজী গহর আলী বিশ্বাস, পদ্মবিলা গ্রামের মৃত মীর মতিয়ার রহমানের ছেলে মীর আবু তাহের মুকুট ও প্রেমচারা গ্রামের মৃত সোবহান মোল্লার দুই ছেলে আমজাদ মোল্লা ও সবুর মোল্লা। একাত্তরে স্থানীয় ইব্রাহিম ডাক্তারের নেতৃত্বে খাজুরা বাজারে শান্তি কমিটির ক্যাম্প গঠন করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া প্রেমচারা গ্রামের মোজাম বিশ্বাসের বাড়ির কাছারি ঘর ক্যাম্পের দফতর হিসেবে ব্যবহার হতো। এ ক্যাম্পের নেতৃত্ব দিত আমজাদ মোল্লা ও সবুর মোল্লা। আমজাদ মোল্লা হুলিহট্ট ও নরসিংহপুর গ্রামের কয়েকজনকে নিয়ে এই শান্তি কামিটি গঠন করে। এ কমিটির সেক্রেটারি ছিল হাজী গহর আলী বিশ্বাস।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমজাদ মোল্লা, ইব্রাহিম ডাক্তার, ফয়েজ আহম্মেদ মীর আবু তাহের মকুট, হাফিজুর রহমান, আবদুল কাদের বাবু ও হাজী গহর আলী বিশ্বাসের নেতৃত্বে হত্যা, গুম, নির্যাতন, লুটতরাজ অগি্নসংযোগ হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। প্রেমচারা গ্রামের নুর হোসেন দফাদারের ছেলে নওশের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ায় তার মা ফুলজান বিবিকে রাজাকার কমান্ডার মজিদ ও ওহাব গুলি করে হত্যা করে। আসামিরা মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, নওয়াব আলী মন্ডল, সুরমান মন্ডল, ওয়াজেদ আলী মন্ডল, আছুফ আলী সরদারের বাড়িতে হানা দিয়ে মালামাল লুটপাট, বাড়ির লোকজনদের গুলি করে হত্যার চেষ্টা ও অগি্নসংযোগ করেছিল। বরিশাল থেকে আসা একটি কাফেলা ভারতে যাওয়ার সময় চতুরবাড়ির বাজার এলাকায় রাজাকার বাহিনীর সদস্য ওলিউল্লাহ ও তার ছেলে ফয়েজ আহম্মেদের নেতৃত্বে পাক হানাদার বাহিনীর একটি দল কাফেলা থেকে ১২ জন নারীকে অপহরণ, যাবতীয় মালামাল, টাকা, সোনার গহনা লুট করে নিয়ে যায়। অপহৃত এসব নারীকে খাজুরা বাজারের রাজাকার ক্যাম্পের ইনচার্জ ইব্রাহিম ডাক্তারের হাতে তুলে দেয়া হয়। এরপর থেকে অদ্যাবধি তাদের আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত