নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর
স্টাফ রিপোর্টার
আজ ৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক-হানাদারদের বিরুদ্ধে পুরোদমে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। এসময় যুদ্ধ পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে হানাদার বাহিনী প্রধান জেনারেল নিয়াজি গোপন বার্তা পাঠিয়েছিলেন রাওয়ালপিন্ডির হেডকোয়ার্টারে। রিপোর্টে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, চারটি ট্যাংক রেজিমেন্ট সমর্থিত আট ডিভিশন সৈন্য নিয়ে আক্রমণ শুরু করেছে ভারত। তাদের সাথে আরো আছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৬০ থেকে ৭০ হাজার বিদ্রোহী (মুক্তিযোদ্ধাদের পাকিস্তানিরা তখন বিদ্রোহী বলে উল্লেখ করতো)।

ঐ চিঠিতে তিনি আরো লেখেন, স্থানীয় জনগণও আমাদের বিরুদ্ধে। দিনাজপুর, রংপুর, সিলেট, মৌলভিবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লাকসাম, চাঁদপুর ও যশোর প্রবল চাপের মুখে রয়েছে। পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠতে পারে। গত নয় মাসজুড়ে আমাদের সৈন্যরা কার্যকর অপারেশনে নিয়োজিত ছিল এবং এখন তারা তীব্র যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। গত ১৭ দিনে যেসব খ- যুদ্ধ হয়েছে, তাতে জনবল ও সম্পদের বিচারে আমাদের ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে গেছে। অস্ত্রসহ রাজাকারদের সটকে পড়ার সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের নিজেদের ট্যাংক, ভারী কামান ও বিমান সমর্থন না থাকার ফলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটেছে।

গোপন এ বার্তা পেয়ে হেডকোয়ার্টার থেকে ৭ ডিসেম্বর সম্মুখ সমরের সৈন্যদের পিছিয়ে এনে প্রতিরোধ ঘাঁটিতে সমবেত করার জন্য নিয়াজির পরিকল্পনা অনুমোদন প্রদান করা হয়। তবে অনুমোদনের অপেক্ষায় বসে থাকেনি যশোর ক্যান্টনমেন্টের পাকিস্তানি বাহিনী। শক্তপোক্ত ঘাঁটি ছেড়ে তারা ৬ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারেই পালিয়ে গিয়েছিল। একদল যায় ফরিদপুর গোয়ালন্দের দিকে। বড় দলটি যায় খুলনার দিকে। ব্রিগেডিয়ার হায়াত তখন ঢাকার দিকে না গিয়ে বস্তুত খুলনার দিকে একরকম পালিয়েই গিয়েছিলেন।

এদিকে মুক্তিবাহিনীর গেরিলা যোদ্ধারা দলে দলে এসে রাজধানীর আশপাশের গ্রামে অবস্থান নিতে শুরু করেন। কারফিউর রাতে তারা দু'চারজন করে নদী পেরিয়ে রাজধানীতে প্রবেশ করে অপারেশন চালাচ্ছেন। গেরিলাদের চোরাগোপ্তা হামলায় সন্ত্রস্ত পাকসেনারা রাতে ক্যাম্প থেকে বের হয় না। গেরিলারা যখন রাতের অন্ধকারে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বোমা হামলা ও ফাঁকা গুলিবর্ষণের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন ঢাকাবাসীকে, তখন ঢাকা সেনানিবাসে দখলদার বাহিনী তাদের দোসরদের নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের হিটলিস্ট তৈরি করছে। এ হিটলিস্ট ধরে আত্মসমর্পণের আগ মুহূর্তে ১৩ ডিসেম্বর রাতে ঘাতক আলবদর, আলশামস বাহিনী নির্মম-নৃশংসভাবে হত্যা করে দেশমাতৃকার কৃতী সন্তান বুদ্ধিজীবীদের।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত