নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
বর্তমানে কলকাতার দমদম কারাগারে
আন্ডারওয়ার্ল্ডের সিরিয়াল কিলার সুব্রত বাইনকে দেশে ফিরে আনা সম্ভব হচ্ছে না
স্টাফ রিপোর্টার
আন্ডারওয়ার্ল্ডের সিরিয়াল কিলিং মাস্টার সুব্রত বাইন। তার বিরুদ্ধে পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি রয়েছে। শীর্ষ এই সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারে শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী ভারত সরকারও সংস্থাটির সহায়তা চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কলকাতায় গ্রেফতার হন সুব্রত বাইন। এখন দমদম কারাগারে রয়েছেন তিনি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে একাধিকবার সুব্রতকে ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু বরাবরই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে ঢাকাকে। সুব্রত বাইন ঢাকায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের শক্তিশালী দু'টি গ্রুপের মধ্যে সেভেন স্টার গ্রুপের জনক হিসেবে পরিচিত। প্রকাশ্যে নানা কৌশলে খুনের ঘটনা ঘটাতেন তিনি। রাত আর দিন বলে তার কাছে কোনো পার্থক্য ছিল না।

জানা গেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের অপরাধের পরিধি দেশেই সীমাবদ্ধ নেই। সীমানা পেরিয়ে ভিন দেশেও তিনি ভীষণ তৎপর ছিলেন। নেপালের জেল ভেঙে পালিয়েছেন তিনি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশেরও তালিকাভুক্ত শীর্ষ অপরাধী এই বাংলাদেশি। সিঙ্গাপুর, চীন, মালয়েশিয়া ও দুবাইতে ব্যবসা করছেন ভিন্ন ভিন্ন নামে। শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সাথে ভারতের মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের যোগাযোগের খবরও রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশের পর থেকে তিনি পলাতক। বর্তমানে সুব্রত কলকাতার কারাগারে বন্দি।

সূত্র জানায়, সুব্রত বাইনের বাবার নাম বিপুল বাইন। মা কুমুলিনি বাইন। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। পারিবারিক জীবনে সুব্রত তিনটি বিয়ে করেছেন। বাংলাদেশে দুটি ও পশ্চিমবঙ্গে একটি। সুব্রত বাইনের প্রথম স্ত্রীর নাম লুসি। এই ঘরে তার দুই সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী সুইটির সঙ্গে তার ডিভোর্স হয়ে গেছে। আর পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া এলাকার মেয়ে হামিদা বিবি তার তৃতীয় স্ত্রী। ১৯৮৭ সাল থেকে ঢাকার মগবাজার কেন্দ্রিক আন্ডারওয়ার্ল্ডে বিচরণ করতে শুরু করেন সুব্রত বাইন। রফিক মার্ডার দিয়ে খুনোখুনিতে জড়ান তিনি। এরপর একে একে ডাবল থেকে তার নাম জড়িয়ে পড়েছে অনেকগুলো ট্রিপল মার্ডারের সঙ্গেও। ২০০০ সালের ২৯ আগস্ট রাজধানীর খিলগাঁও ৪৪৬/সি নম্বর বাড়ির নিচতলার একটি ফ্লাট থেকে উদ্ধার হয় তিন যুবকের লাশ। তিনজনকেই হত্যার পর এসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেয়ার চেষ্টা করে খুনিচক্র। এরপরও তিনজনকেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এদের একজন হলেন, ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুর্ধর্র্ষ শীর্ষসন্ত্রাসী গোপীবাগের আসিফ, তার দেহরক্ষী গিয়াসউদ্দিন টিপু ও সহযোগী রিপন। এ ঘটনার বেশ কিছুদিন আগে ঢাকার আগামসি লেনের একটি পরিত্যক্ত কারখানার ভেতর খুন হন মামুন, গোপাল কর ও নুরুল ইসলাম নামের তিন যুবক। তারা তিনজনই আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুর্ধর্র্ষ অপরাধী। মহাখালীর আরজত পাড়ার গোসাইঘাটে খুন হন তিন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। ঢাকার এসব গ্যাং কিলিংয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুর্ধর্ষ ডন সুব্রত বাইন জড়িত। এছাড়া রাজধানীতে আরও বেশ কয়েকটি গ্যাং কিলিংয়ের ঘটনা ঘটে, যার প্রায় প্রতিটিতেই সুব্রতের জড়িত থাকার প্রমাণ পায় পুলিশ ও গোয়েন্দারা।

আন্ডারওয়ার্ল্ডে সুব্রত বাইনের আবির্ভাবের পর গ্যাং কিলিংয়ের ঘটনা বেড়ে যায়। এসব হত্যাকা-ে তাকে সহায়তা করে একই দলের সুইডেন আসলাম। এই গ্যাং কিলিংকে কেন্দ্র করে দু'গ্রুপই দলভারি করতে থাকে। বাড়াতে থাকে অস্ত্রশস্ত্র। ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে আসতে থাকে অত্যাধুনিক অস্ত্র। মূলত ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে উত্থান ঘটে সুব্রত বাইনের। সেভেন স্টার আর ফাইভ স্টার নামে দুই ভাগ হয় তখনকার আন্ডারওয়ার্ল্ড।

সেভেন স্টারের নেতৃত্ব দেন সুব্রত বাইন। আর ফাইভ স্টার বাহিনী গড়ে তোলেন যুবলীগ নেতা লিয়াকত। লিয়াকতের গ্রুপে যোগ দেন পিচ্চি হান্নান, কালা জাহাঙ্গীর, আরমান, জিসান, রনি, বিকাশ, প্রকাশ, নিটেল, আলাউদ্দিন, কিলার আব্বাস, আগা শামীম, কাজল ও অশ্রু।

অন্যদিকে সুব্রত বাইনের সেভেন স্টার বাহিনীতে আসেন মুরগি মিলন, তানভীরুল ইসলাম জয়, টোকাই সাগর, ইমাম হোসেন ইমাম, মোল্লা মাসুদ, সাইদুর রহমান নিউটন, তোফায়েল আহমেদ ওরফে জোসেফ, তানজিল, কচি, টিক্কা, আসিফ, কালা লিয়াকত, জরিফ, নাটকা বাবু, মুরাদ, মানিক, চঞ্চল, জুলু ও জন। লিয়াকতের সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন সুইডেন আসলাম হাত মেলান সুব্রত বাইনের সঙ্গে। আর এতে আন্ডারওয়ার্ল্ডে শক্তি বাড়ে সুব্রত বাইনের।

২০০০ সালের ১৮ মে পুরান ঢাকার জজকোর্ট এলাকায় ফিল্মি কায়দায় খুন করা হয় হুমায়ুন কবির মিলন ওরফে মুরগি মিলনকে। ফাইভ স্টার গ্রুপের পিচ্চি হান্নান, কালা জাহাঙ্গীর এবং ডাকাত শহিদ এই হত্যা মিশনে সরাসরি অংশ নেন। মুরগি মিলন খুনের পরই সুব্রত বাইন দেশ ছেড়ে পালান। ২০০৮ সালের ১১ অক্টোবর কলকাতা পুলিশের হাতে প্রথম গ্রেফতার হন তিনি। জামিনে মুক্তির পর দুবাইয়ে ব্যবসা করতে গিয়ে ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে পরিচয় হয় সুব্রতের। দুবাই থেকে তারা যান নেপালে। কিন্তু তখনই ভারত সরকার তার নামে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করে। এরপর নেপালেই আত্মগোপন করেন সুব্রত। কিন্তু ২০০৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সেখানে গ্রেফতার হন তিনি। তবে ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর সুব্রত বাইন ১২ সহযোগীসহ নেপালের কারাগার থেকে সুড়ঙ্গ কেটে পালান। কিন্তু ২৭ নভেম্বর কলকাতা পুলিশের হাতে ফের গ্রেফতার হন তিনি। এরপর থেকে তাকে দেশে ফেরাতে ভারতের সঙ্গে একাধিকবার বাংলাদেশ চিঠি চালাচালি করেছে। কিন্তু ভারত সরকার তাকে ফেরত দেয়নি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুব্রতর স্ত্রী হামিদা বিবি অভিযোগ করেন, দমদম সেন্ট্রাল জেলে বসেই জঙ্গি হামলার ছক কষছেন সুব্রত। জেল থেকেই তিনি জেএমবির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেছিলেন। হামিদা পুলিশকে জানান, তাদের রাজারহাটের নারায়ণপুরের বাড়িতে কিছু অপরিচিত লোকজনের যাতায়াত শুরু হয়। তাদের কথা শুনে মনে হয়েছে সবাই বাংলাদেশি। তারা ভারতে থাকার কাগজপত্রও তৈরি করছে। সুব্রতই তাদের সহায়তা করছে। হামিদা তাদের বাড়িতে থাকতে দিতে আপত্তি করায় সুব্রত জেল থেকে ফোনে তাকে খুনের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পুলিশকে হামিদা বিবি আরও জানান, সন্দেহভাজন এসব লোকজন জেএমবির সঙ্গে যুক্ত বলে তার মনে হয়েছে। তার আরও অনুমান, সুব্রত এদের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশে বড় ধরনের নাশকতার ছক কষছে-এমন অভিযোগ পাওয়ার পরই সুব্রতকে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। তবে এ বিষয়ে কলকাতা পুলিশ বিস্তারিত আর কোনো তথ্য বাংলাদেশকে দেয়নি।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত