নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
কমেছে ধানের দাম বেড়েছে চালের
হতাশায় কৃষকরা : চলছে সিন্ডিকেটের কারসাজি
বিশেষ প্রতিনিধি
দেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধানের নিম্নমূল্যে হতাশ উৎপাদনকারী কৃষক। অপরদিকে, ধান-চালের এ ভরা মৌসুমে বাজারে সব ধরনের চাল কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফের উদ্বিগ্ন সীমাবদ্ধ আয়ের মানুষ।

এদিকে চলতি বছরে দেশে আমনের উৎপাদন ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বাদ দিলে বিক্রয় মূল্যে তেমন বাড়তি কিছু পাচ্ছে না। ফলে এ বছর আমনে কোনো লাভ হবে না।

তবে সরকারিভাবে চাল ক্রয় শুরু হলে ধানের দাম বাড়বে বলে জানিয়েছে খাদ্য বিভাগ। এ বছর সরকার ৩৯ টাকা কেজি দরে সারাদেশে থেকে ৩ লাখ মেট্রিক টন আমন চাল সংগ্রহ করবে। মাঠ পর্যায়ে এই চাল সংগ্রহের কাজ শুরু হলে দাম কিছুটা বাড়বে।

এদিকে, স্থানীয় বাজারে চালের বর্ধিত দামের লাগাম টেনে ধরতে আমদানি করা চালের শুল্কে বিশাল ছাড় দিয়েছে সরকার। সেই চালের মজুদও ভালো। কিন্তু এতোসবের মধ্যেই হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করেছে চালের দাম। পাইকাররা ইতোমধ্যে খুচরা ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দিয়েছেন চালের দাম আরও বাড়বে, পারলে দোকানে মজুদ শুরু করুন।

চালের যে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছিল তা এখন কমার কথা। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে এর উল্টো। রাজধানীর বাজারে সব ধরনের চাল কেজিতে ২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে খুচরা পর্যায়ে। সবচেয়ে ভাল মানের চাল বাদে সব ধরনের চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানভেদে ভালো মানের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা প্রতি কেজি।

পাইকারি বাজারে বস্তা প্রতি বেড়েছে ৫০ টাকা করে। গতকাল বুধবার রাজধানীর কয়েকটি বাজারের তথ্য নিয়ে দেখা গিয়েছে এ চিত্র। সূত্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত মজুদ করা চাল বাজারে ছেড়ে দিতেই এই কৃত্রিম সংকট করার পরিকল্পনা করেছে আগের সিন্ডিকেটটি।

সূত্র বলছে, নতুন ধান পাওয়া যাচ্ছে ৭শ থেকে সাড়ে ৭শ টাকা মণ দরে। এ দামে ধান কিনে লাভসহ সব খরচ যোগ করলে প্রতি কেজি চালের দাম ৪৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা না। কিন্তু ৪৫ টাকা কেজি দরে বাজারে এখন চাল মিলছে না। অভিযোগ রয়েছে, কিছু মিল-মালিক কারসাজি করে চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

এদিকে বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। ৬২ থেকে ৬৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া সরু চালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ থেকে ৬৭ টাকায়। নাজিরশাইলের দাম বেড়ে ৭০ টাকা ছুঁয়েছে। স্থানভেদে ৬৫ টাকাও বিক্রি হচ্ছে। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ৫০ টাকায় পাওয়া যেত।

সূত্র বলছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কোনোভাবেই চালের দামের লাগাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা দেখছেন কেউ কেউ। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, চাল আমদানিতে সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। আবার যা আমাদানি করা হয়েছে এর বেশিরভাগই আতপ চাল। দেশের মানুষ আতপ চাল খেতে অভ্যস্ত না হওয়ায় এ চালের প্রতি কারো আগ্রহ নেই। ফলে চালের বাজারের লাগাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

নতুন চাল আসার পরও চালের দাম না কমায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ভোক্তাদের মধ্যে। রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে চাল কিনতে আসা রাকিব বলেন, একের পর এক জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে। কিছুদিন আগে পেঁয়াজের দাম বেড়ে ১০০ টাকা হয়েছে। তার প্রশ্ন, এখন কেন পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা হবে? এখন আবার চালের দাম বেড়েছে। অথচ নতুন ধান উঠেছে। বাজারেও নতুন চাল এসেছে। তাই চালের দাম কমার কথা। কিন্তু দাম না কমে উল্টো বেড়েছে।

বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম খোরশেদ আলম অভিযোগ করেছেন, বাজারে এখন নতুন চাল এসেছে। এ পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। এখন ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ দরে ধান পাওয়া যাচ্ছে। এ দামে ধান কিনে, সেই ধানের চালের দাম সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা হতে পারে। কিন্তু বাজারে বর্তমানে চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৬ টাকায়। সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চালের এমন বাড়তি দাম।

তিনি আরও বলেন, চালের ব্যবসা ১৫ থেকে ২০ জনের দখলে চলে গেছে। কয়েকজন ব্যাংক থেকে ৫০০ থেকে দুই হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন। ব্যাংক ঋণ নিয়ে এখন তারা এ সিজনে কম দামে ধান কিনছেন। কারও কারও প্রত্যেক জেলায় গোডাউন আছে। ধান কিনে গোডাউনে মজুদ করছেন। তারাই সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ান।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাল না কিনে আমদানি করে তা হলে তিন লাখ টন চাল ব্যবসায়ীদের হাতেই থাকবে। এতে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়বে। কিন্তু সরকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩৯ টাকা দিয়ে চাল কিনে গোডাউনে নিলে আবার বাজারে সংকট দেখা দিতে পারে। ৩৯ টাকা দরে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহ না করে আমদানি করলে কেজিতে সরকারের বরং তিন টাকা করে খরচ কম পড়বে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত