নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
ইসলামে জননিরাপত্তা
গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির
নিরাপওা মানুষের মৌলিক অধিকার। নিরাপদ পরিবেশ আল্লাহ তায়ালার এক গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত। সূরা কোরাইশে আল্লাহপাক কোরাইশদের প্রতি তার দেয়া দুটি নেয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন : যিনি তাদের ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং যুদ্ধভীতি থেকে তাদের নিরাপদ করেছেন। রাসূল (সাঃ)-এর একটি হাদিসে বর্ণিত আছে : রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, যে কিনা তার দিনটি শুরু করে এ অবস্থায় তার গৃহ নিরাপদ, সে স্বাস্থ্যের দিক থেকে সুস্থ এবং সেই দিনের প্রয়োজনীয় রিজিক (খাবার) তার কাছে রয়েছে, তবে যেন সব কল্যাণই সে পেয়েছে' (তিরমিযি)। এ হাদিসে তিন ধরনের নিরাপত্তার কথা এসেছে : সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা। সুস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা বলতে মানুষের শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যই আসে। মূলত এ বিষয়গুলোই একটি সুস্থ, সুখী ও কল্যাণকর সমাজ এবং রাষ্ট্রের মূল উপাদান এর সঙ্গে যোগ হতে পারে মানুষের সম্মানের নিরাপত্তা। এ সর্ম্পেক রাসূল (সা.) বলেন,'যে বড়দের সম্মান করে না ও ছোটদের স্নেহ করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়'।'সে সত্যিকারের মুসলিম, যার হাত ও জিহ্বার অনিষ্ট থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ। রাসূলুল্লাহ(সাঃ) মদিনায় পৌঁছে একটি সংঘবদ্ধ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করেছিলেন, যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবজীবনকে সুশৃঙ্খল করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জনগণের জীবনের নিরাপত্তার ব্যাপারে ইসলামের প্রধান দুটি মূলনীতি হলো: এক. ইসলাম মানবজীবনকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান মনে করে। দুই. জননিরাপত্তা বিঘি্নত করাকে ইসলাম একটি বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। ইসলামের পরিভাষায় 'ফাসাদ ফিল আরদ' অর্থাৎ পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করা কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিদায় হজের বাণীতে রাসূল (সাঃ)বলেছেন, হে লোক সকল! তোমাদের পরস্পরের জানমাল ও সম্মান পরস্পরের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত এই নগরী,এই মাস ও এই দিনের মতো হারাম সাব্যস্ত করা হলো। আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন 'সে প্রাণকে হত্যা করো না, যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন; কিন্তু ন্যায়ভাবে (সূরা-বনি ইসরাইল, ৩৩)। এক ব্যক্তি বিশ্বাসী বা মুমিন হলেই এ নীতির আওতায় পড়বে। যে ব্যক্তিই (কালেমা) উচ্চারণ করবে এবং মুখে এই কথা স্বীকার করে নেবে আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই: হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল তার ক্ষেএেই কোরআনের এই নীতি প্রযোজ্য হবে। উন্নত মনের মুমিন, মুওাকি বা মুহসিন হতে হবে এমন কোনো শর্তারোপ এখানে করা হয়নি। হযরত উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) একবার যুদ্ধে এক কাফেরকে পরাস্ত করে মাটিতে ফেলে দিলেন এবং তলোয়ার উঁচু করলেন। এ অবস্থায় ঐ ব্যক্তি কালেমা পাঠ করল। কিন্তু উসামা (রা.) ব্যক্তিটিকে হত্যা করলেন। ঘটনাটি জেনে রাসূল (সাঃ) অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন এবং বললেন,উসামা, তুমি লোকটি কলেমা পাঠ করার পরও তাকে হত্যা করলে। হজরত উসামা (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! লোকটি তলোয়ারের ভয়ে কলেমা পাঠ করেছে (অর্থাৎ অন্তর থেকে মেনে না নিয়ে বরং মৃত্যু থেকে বাঁচার জন্য কলেমা পাঠ করেছে)। রাসূলুল্লাহ(সা.) বললেন,তুমি কি তার অন্তর চিড়ে দেখেছিলে ? কাজেই একজন ব্যক্তি যতক্ষণ নিজেকে মুসলমান বলে পরিচয় দেয়, ততক্ষণ তাকে মুসলমান বিবেচনা করেই তার সঙ্গে আচরণ করতে হবে। ইসলাম মানবজীবনকে এতটাই পবিএ মনে করে, অন্যের জীবন তো নয়ই নিজের জীবন নিজে হরণ করাকেও (আত্মহত্যা করা) ইসলাম হারাম করছে। আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহতায়ালা তোমাদের প্রতি দয়ালু। আর যে কেউ সীমালঙ্ঘন বা জুলুমের বশে এরূপ করবে তাকে খুব শিগগিরই আগুনে নিক্ষেপ করা হবে (সূরা-নিসা ২৯-৩০)। ইসলামে একটি মুসলিম দেশে বসবাসকারী অমুসলিম সম্প্রদায়কে বোঝাতে 'জিম্মি' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। জিম্মি শব্দটির অর্থ সংরক্ষিত জনগোষ্ঠী। পূর্বে মুসলিম দেশে অমুসলিম গোষ্ঠী বসবাস করতে হলে চুক্তিতে আবদ্ধ হতে হতো। এজন্য ্এদের চুক্তিবদ্ধ জনগোষ্ঠীও বলা হয়। বর্তমানে আধুনিক বাস্তবতায় কোনো লিখিত চুক্তির প্রয়োজন পরে না। জন্ম সূত্রে বা অন্য কোনো উপায়ে যখন সে নাগরিকত্ব লাভ করে তখনই সে জিম্মি অন্তর্ভুক্ত হয় এবং জিম্মির সব অধিকার লাভ করে অর্থাৎ মানবাধিকার সংজ্ঞায় যেসব অধিকার রয়েছে তা মুসলিম ও জিম্মিরা সমভাবে ভোগ করবে , বিশেষত নিরাপত্তার অধিকার। জিম্মিদের প্রতিবেশী হিসেবে আশ্রয় দেয়া ও নিরাপত্তা দেয়া মুসলমানদের দায়িত্ব। এ বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করা, তাদের সম্মানহানী করা, আঘাত দেয়ার অর্থ হলো আল্লাহর দেয়া শর্ত ভাঙা, রাসূল (সাঃ) ও ইসলামের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়া। জিম্মি ছাড়াও আরো এক ধরনের মানুষ (অমুসলিম) রয়েছেন যারা মুসলিম দেশের সঙ্গে সাময়িক বা অস্থায়ী চুক্তিবদ্ধ। যেমন-সেসব ব্যক্তি যারা ভ্রমনের উদ্দেশ্যে বা অন্য কোনো কাজে মুসলিম দেশে প্রবেশ করেন। মুসলিম দেশগুলো যখন ভিসা প্রদান করে তখনই ঐ ব্যক্তিদের সঙ্গে অলিখিত নিরাপত্তা প্রদানের চুক্তি করে। ফলে মুসলিম উম্মাহর কর্তব্য হয়ে পড়ে ঐ সব বিদেশি ব্যক্তি এবং ট্যুরিস্টেও জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা। হত্যা তো নয়ই বরং নিরপরাধ মানুষকে ভয় দেখানো বা ভীত-সনস্ত করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসূল (সাঃ) বলেছেন,একজন সত্যিকারের ঈমানদার সে, যার কাছ থেকে মানুষ তার জানমালের ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিরাপদ বোধ করে (ইবনে মাজা)। এ হাদিসে মানুষ বলা হয়েছে। বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী সব রকমের মানুষই ঈমানদারদের কাজ থেকে কোনো প্রকার ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।কেউ যদি কোনো মুসলিমের প্রতি শুধু অ:তাক করে, তবে ফেরেশতারা তার ওপর অভিশাপ বর্ষণ করতে থাকে। স্বাভাবিক পরিবেশে তো অবশ্যই এমনকি যুদ্ধকালীনও ইসলাম অসামরিক ব্যক্তি যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি; মহিলা, শিশু, বৃদ্ধ এবং সন্ন্যাসী বা ধর্মযাজক যারা কেবল উপাসনায় লিপ্ত তাদের হত্যা করাকে নিষিদ্ধ করেছে। কোরআন-হাদিস থেকে প্রমাণিত, ইসলামের এ নিরাপত্তার বিধান পশুপাখি, কীটপতঙ্গ এমনকি গাছপালা পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রকৃত পক্ষে 'ইসলাম' ও 'শান্তি' শব্দ দুটির উৎপওি একই শব্দ 'সালাম' থেকে। একজন মুসলিম অন্য মুসলিমের সঙ্গে সাক্ষাতে সর্বপ্রথম যে দোয়া বিনিময় করে তা হলো, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক'। মুসলমানদের বহু আকাঙ্খিত গন্তব্যস্থল বেহেশতকে বলা হয়েছে, 'দারুসসালাম' বা শান্তির আবাসস্থল। ইসলাম সমগ্র সৃষ্টিকুলের নিরাপত্তা বিধানের একমাত্র রক্ষা কবজ।

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৭
ফজর৫:১৩
যোহর১১:৫৫
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৮
এশা৬:৩৬
সূর্যোদয় - ৬:৩৪সূর্যাস্ত - ০৫:১৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২১১৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.