নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে?
মফিজুল ইসলাম সৌরভ
সাম্য শব্দটির সাথে আমরা পূর্নাঙ্গ পরিচয় হয়ে উঠি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য কবিতার মাধ্যমে। সাম্য মানেই, সমান বা সমতা। মানুষ সমাজে বসবাস করে। সমাজবদ্ধভাবে মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে বেঁচে থাকার জন্য সমান অধিকার নিয়ে বাঁচতে চায়। বর্তমানে সমাজে তিন শ্রেণির লোক বসবাস করে ; উচ্চ-মধ্য-নিম্ন, এই তিন শ্রেণির লোক একে অপরে সাথে মিলেমিশে থাকাটা অগ্রহণযোগ্য। নিম্ন শ্রেণির লোক সবসময় মধ্য-উচ্চ বিত্তলোকদের সাথে মিশে থাকতে চায়, কিন্তু মেশাতো দূরের কথা তাদের পাত্তাও দেয় না উচ্চবিত্ত লোকজন। প্রাচীনকালে এই বাংলায় ব্রাক্ষণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, ও শূদ্র এ চার প্রকার বর্ণের লোক বসবাস করতো। এর মধ্যে 'ব্রাক্ষণদের' স্থান ছিল সমাজের সর্বোচ্চ স্থান যা বর্তমানে 'উচ্চ শ্রেণির' সাথে প্রায় মিল রয়েছে 'ক্ষত্রিয়দের' সাথে বর্তমানে মিল খুঁজে পাওয়া যায় 'মধ্যম শ্রেণির' লোকদের অপরদিকে প্রাচীনকালে 'শূদ্রদের' স্থান ছিল করুন অবস্থা বর্তমানে মিল খুঁজে পাওয়া যায় 'নিম্ন শ্রেণির' লোকদের। কিন্তু প্রাচীনকালে ব্রাক্ষণ বাদে অন্যসব বর্ণের লোকজন একে অপরের সাথে মেলামেশা করতো। বর্তমানে সমাজে উচ্চ-মধ্যম এরা সবসময় মিলেমিশে থাকতে চায়। আর নিম্নবর্ণের লোকদের সাথে কেউ মিশতে চায় না। কেউ তাদের কোনো কাজের পাত্তাও দেয় না, কথা বলাতো দূরের কথা, কোনো ন্যায্য কথার মূল্য দেয় না। যেকোনো কথা ধুমকি ধামকি দিয়ে বন্ধ রাখে। অসহায় গরিব পরিবারের সন্তানরা উচ্চ শিক্ষিত হলেও তাদের সম্মান তো দূরের কথা টাকার দাপটে সম্মানহানী করে। এমন কি-মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখে। এটা কি হতে পারে সাম্যের সমাজ? সামাজিক সাম্য সঠিকভাবে ব্যবহার হতে না পারলে অসাম্যের সমাজ গড়ে উঠবে। ফলে সমাজে একদিন বর্বরতা, হানাহানি, মারামারি, দাঙ্গাহাঙ্গামা অন্ধকার রূপে দাঁড়াবে। বর্তমানে আমাদের সমাজজীবনে চরম অবক্ষয়ের চিত্র জীবন্ত হয়ে আছে। এই অবক্ষয় যুবসমাজকে প্রভাবিত করছে, দোলা দিচ্ছে তাদের মন-মানসিকতাকে। আমাদের যুবসমাজের সামনে আজ কোনো আদর্শ নেই। নেই অনুপ্রাণিত করার মতন কোনো মহৎ-প্রাণ আলোকিত মানুষ। ঘরে-বাহিরে সর্বত্রই মনুষ্যত্বের দীনতার চিত্র। সাম্যর সমাজকে নতুন চেতনায় উদ্দীপ্ত করার মতো কোনো পরিকল্পনা নেই, ফলে তারা প্রতিনিয়ত ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সমাজে সমাজে বিরোধীর যে সম্মান, যে প্রতিপত্তি, সেখানে একজন জ্ঞানী,সৎ মানুষের মূল্য তুচ্ছ। সততা সেখানে লাঞ্চিত, অসহায়। বিবেক সেখানে বিবর্জিত। জ্ঞাণী-গুণীরাও তাদের খাতির করে। জঘন্য, নিষ্ঠুর কাজকর্ম করেও তারা সমাজের চোখে নিরাপদ। সমাজের প্রভাবশালীরা অনায়াসে মানুষ খুন করে, ডাকাতি করে, জনজীবনে ত্রাসের সৃষ্টি করে। কোনো অন্যায় আজ অন্যায় বলে বিবেচিত হচ্ছে না। নীতিভ্রষ্ট মানুষ আজকের দিনে নিজেকে অপরাধী বলে বিবেচনা করে না। দুর্নীতির মাধ্যমে বিত্তশালী হয়েও তারা সঙ্কোচবোধ করে না। বরং অর্থের গৌরবে বক্ষস্ফীত করে চলে। অবৈধ উপায়ে উপার্জনের প্রতিযোগিতা চলছে সমাজে। সমাজে প্রভাবশালীরা অর্থের দাপটে অযোগ্য লোকদের চাকরি দিয়ে দিচ্ছে; ঐ দিকে পড়ে থাকে উচ্চ-শিক্ষিত কৃষকের ছেলে-মেয়ে, চাকরিতো দূরের কথা একটু আশাও দেয় না। যখন পড়ালেখা শেষ করে অর্থসংকটে চাকরি মেলে না তখন কৃষকের ছেলেমেয়েদের অবস্থা কিরূপ হতে পারে। কে দিবে তাকে আলোর পথের সন্ধান? কে নিয়ে যাবে সেই আলোর পথে? আমাদের দেশে_সমাজে সর্বত্র একটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। সকল মানুষ যেন অধীর, সকলের যেন কোনো না কোনো অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। শিক্ষার প্রতি অনুরাগ, ন্যায়ের প্রতি কারও আগ্রহ নেই। বেড়েছে ভোগবাদী প্রবণতা, কর্তব্যের প্রতি অবহেলা, সহানুভূতির পরিবর্তে মানুষের প্রতি মানুষের অবহেলা, স্বার্থ সাধনের জন্য ব্যাপক তৎপরতা, জনকল্যাণের প্রতি অনীহা। এসব মূল্যবোধহীন মানুষের জীবনকে অস্থির করে তুলছে। আমাদের সমাজে বেড়েছে সন্ত্রাসী কর্মকা-, বেড়েছে দুর্নীতি, মূল্যবোধের অবক্ষয় অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা, দারিদ্র্য। কিন্তুু বাড়ছে না মানুষের জন্য মানুষের সংবেদনশীলতা। কিন্তু কেন? কেনোর উত্তর খুঁজে বের করতে গেলে নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাব দেখা দেয়। নৈতিক মূল্যবোধের অভাবে জাতি আজ চরম সংকটে পতিত হয়েছে। সমাজের নৈতিক অধঃপতনের কারণে সামাজিক সমস্যা বাড়ছে এর ফলে সমাজ জীবন অস্থির ও অশান্ত হয়ে উঠছে। মানুষের মধ্যে ভোগবাদী প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সমাজের লোভ, মিথ্যাচার, আদর্শহীনতা, উচ্ছৃঙ্খলতা, ঘুষ, জালিয়াতি, রাহাজানি, ইত্যাদি সমাজবিরোধী কর্মকা- বেড়ে গেছে সর্বোপরি নৈতিক শিক্ষার জন্য সমাজে যে আদর্শ থাকার কথা তা ক্রমেই নানা কারণে হরাস পেয়েছে, ফলে অনৈতিকমূল্যবোধ শূন্যতা দেখা দিয়েছে। এই সব দূর করার জন্য সামাজিক সাম্য এমনভাবে হতে হবে যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও পেশাগত কারণে যখন মানুষে মানুষে কোনো পার্থক্য করা হবে না এবং সমাজে বসবাসরত সকল মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে। ধনী-গরিব হবে ভাই ভাই; কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না। বিশেষ করে উচ্চবিত্তলোকদের খেয়াল করতে হবে সমস্ত মৌলিক অধিকার থেকে যাতে বঞ্চিত না হয় দরিদ্ররা সেই দিকে নজর দিতে হবে। এজন্য হাত বাড়াতে হবে। বিত্তশালীদের নজর দিতে হবে সমাজের দাসকৃত অর্থ সবাই সমান সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে কিনা; এবং সমাজে বসবাসরত প্রতিবন্ধীদের সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে দিচ্ছে কিনা; সমাজের অর্থের অভাবে তরুণ মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা অর্থ সংকটে পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কিনা; সমাজ কল্যাণের ক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের নীতিগ্রহণ করে। কিন্তু সেই নীতিমালা ধনিক শ্রেণির লোকের গায়ের জোরে নিজেরাই পরিবর্তন করে সেদিকে সর্তক হতে হবে সকল নাগরিকের। অসাম্যর সমাজকে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে একমাত্র আদর্শ যুবকরা। তারা পারে সমাজে যত দ্বন্দ-কলহ, অর্থনৈতিক সঙ্কট মেটাতে। এছাড়াও সমাজে রন্ধ্রে-রন্ধ্রে শিক্ষার আলো পৌঁছানো ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগাতে। মূল্যবোধ এমন একটি ভিত্তি যেখানে দীর্ঘদিনের আচার-আচরণ, বিশ্বাস দৃষ্টিভঙ্গি। দীর্ঘ অনুশীলনের বিশ্বাস দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধকে গ্রহণ ও লালন করা হয়, যেগুলো ব্যক্তি ও সমাজের জন্য কল্যাণকর, সঠিক ও কাঙ্ক্ষিত। সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা স্নেহ-প্রীতি, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ইত্যাদি মনোভাব গড়ে উঠবে। সমাজের সাম্য অসাম্যর দিকে না যায় এ জন্য সমাজে বসবাসরত সকল নাগরীককে নৈতিক শিক্ষাবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের উভয় মাধ্যমে সমাজে মানুষ সাম্যভাব, শান্তস্বভাব, মার্জিত আচরণ ও প্রজ্ঞার অধিকারী হতে পারবে। নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষ সুখী হবে এবং তাদের মানবতাবোধ জাগ্রত করতে সহায়তা করবে; এর ফলে সমাজের ঘুষ, দুর্নীতি, বঞ্চনা, শোষণ, স্বার্থপরতা, এইসব থেকে সমাজ মুক্ত হবে। মুক্ত হলে সমাজে মানুষে মানুষে থাকবে না কোনো ভেদাভেদ কোনো অহংকার, একদিন আদর্শ সমাজ গড়ে উঠবে, আদর্শ জাতি গড়ে উঠবে, দেশ হবে সুখি সমৃদ্ধ অসাম্যহীন আদর্শ সমাজ।

মফিজুল ইসলাম সৌরভ : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৭
ফজর৫:১৩
যোহর১১:৫৫
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৮
এশা৬:৩৬
সূর্যোদয় - ৬:৩৪সূর্যাস্ত - ০৫:১৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২১২৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.