নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
টাকা না দিলে নাম ওঠে না লটারিতে
লটারির নামে চলে দুর্নীতি
ভিকারুননিসার অনিয়মের শীর্ষে ভর্তি ও কোচিং বাণিজ্য । অরিত্রীর আত্মহননের পর বের হয়ে আসছে নানা কাহিনী
স্টাফ রিপোর্টার
'প্রথম শ্রেণীতে চলে ভর্তি বাণিজ্য। একজনকে ভর্তি করতে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা নেয়া হয়। লটারির নামে চলে দুর্নীতি। টাকা না দিলে লটারিতে নাম ওঠে না। এই কাজে লোক নিয়োগ করা আছে'-ঠিক এমনটাই অভিযোগ দিলারা চৌধুরী নামে এক অভিভাবকের।

এই অভিভাবকের ২ মেয়েই পড়ে ভিকারুননিসা স্কুলে। তিনি অভিযোগ করেন, আমার মেয়েও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তারা ২ বান্ধবী সবসময় একসাথে বসে এটাই তাদের অপরাধ। এই কারণে তাদের অপমান-অপদস্থ করা হয়েছে। অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। স্কুলের শিক্ষকরা অভিভাবকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। কোনো দাম দেন না।

তিনি অভিযোগ করে জানান, শিক্ষকরা তাদের কাছে কোচিং করতে বা প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করে। না পড়লে পরীক্ষায় নম্বর কম দেয়। আবার খারাপ ব্যবহারও করে

শিক্ষার্থীদের সাথে। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ রকম খারাপ আচরণের অনেক অভিযোগ পাই উল্লেখ করে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ সুজন বলেন, সেগুলো তাদের জানালে আসলে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না। তারা এসব অভিযোগ আমলেই নিতে চায় না। আর টিসি'র হুমকি দেয়, অভিভাকদের সাথে প্রায়ই খারাপ ব্যবহার করে। এর পেছনে প্রধান কারণ ভর্তি এবং কোচিং বাণিজ্য। তিনিও অভিযোগ করেন, ৪ লাখ টাকার নিচে ভর্তি করা যায় না। আর প্রতি বিষয়ে মাসে কোচিংয়ে নেয় দেড় হাজার টাকা। কেউ কোচিংয়ে রাজি না হলে তাদের নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। পরীক্ষায় নম্বর কম দেয়।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির নানা চাঞ্চল্যকর কাহিনী বের হয়ে আসছে। অনিয়মের শীর্ষে ভর্তি ও কোচিং বাণিজ্য। এই অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও।

একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে অভিভাবকের সাথে দুর্ব্যবহার করায় নবম শ্রেণীর প্রভাতী শাখার শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারী আত্মহত্যা করেন গত সোমবার। আর এই ঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রতিবাদমুখর হয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করলে শিক্ষা প্রশাসনের টনক নড়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক তদন্তে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ৩ জন শিক্ষককে দায়ী করে তাদের বরখাস্ত করা করেছে। তারা হলেন- ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, বেইলি রোড ক্যাম্পাসের প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শিক্ষক হাসনা হেনা। তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলাও হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গত বুধবার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেললনে জানান, ঐ ৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, সেখানে ১০ লাখ টাকা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। সেটা বন্ধ করতে আমরা লটারি সিস্টেম চালু করেছি। কিন্তু তার পরও দেখা যাচ্ছে অনুমোদনের চেয়ে অনেক বেশি ছাত্রী তারা ভর্তি করে। তার মানে, বোঝাই যায় কেন তারা অতিরিক্ত ছাত্রী ভর্তি করেন। তিনি বলেন, আমরা নতুন কোনো শাখা খোলার অনুমোদন দেই না। কিন্তু তারা একটার পর একটা শাখা খোলে। এর উদ্দেশ্য সহজেই বোঝা যায়।

এ প্রসঙ্গে ভিকারুননিসা স্কুলের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী লামিয়া রাহমান বলেন, অরিত্রীর সাথে যা ঘটেছে তা আরো অনেকের সাথেই ঘটেছে। অরিত্রী সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। অন্যদের হয়তো মানসিক জোর বেশি থাকায় আত্মহত্যা করেনি। পরিস্থিতি বোঝার জন্য একজনের আত্মহত্যা কি যথেষ্ট নয়? আমরা আর কোনো অরিত্রীকে হারাতে চাই না।

আরেকজন শিক্ষার্থী অনুস্কা রায় বলেন, ছোটখাটো বিষয়েও আমাদের অপমান অপদস্থ করা হয়। অভিভাবকদের ডেকে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। আমরা তাদের কাছ থেকে মানবিক আচরণ পাই না। আমরা সবসময় ভয়ের মধ্যে থাকি। শিক্ষকদের কাছে কোচিং না করলে, প্রাইভেট না পড়লে নানাভাবে অপমান করা হয়। তিনি বলেন, টিসি একটা বড় আতঙ্ক। কোনো কিছু হলেই টিসি দিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।

স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মানসিক নির্যাতনসহ নানা ধরনের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও অর্থের বিনিময়ে ভর্তির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, আমি ভর্তি বাণিজ্য এবং কোচিং বাণিজ্যের কোনো অভিযোগ পাইনি। কাউকে বাধ্যতামূলক টিসিও দেয়া হয়নি। এটা দেয়ার নিয়ম নেই। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এখন মোট শিক্ষার্থী ২২ হাজার। একসময় বেইলি রাডে এই ঐহিত্যবাহী স্কুলটি গড়ে উঠলেও এখন আরো ৩টি শাখা আছে ধানম-ি, আজিমপুর ও বসুন্ধরায়।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৭
ফজর৫:১৩
যোহর১১:৫৫
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৮
এশা৬:৩৬
সূর্যোদয় - ৬:৩৪সূর্যাস্ত - ০৫:১৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২১০৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.