নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২০ ডিসেম্বর ২০১২, ০৬ পৌষ ১৪১৯, ০৬ সফর ১৪৩৪
বিএসইসি'র বিদেশি কোম্পানি প্রীতি
বিলুপ্ত হচ্ছে হোন্ডা-এটলাস চুক্তি
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
আগামী ৩১ ডিসেম্বর বাতিল হচ্ছে এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে জাপানি বিখ্যাত ব্র্যান্ড হোন্ডার দীর্ঘ দিনের চুক্তি। এখন খোদ হোন্ডা নিজেই এ দেশে মোটরসাইকেল সংযোজন করবে। এ লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন (বিএসইসি) সঙ্গে তাদের একটি চুক্তিও

সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু আশংকার বিষয় হচ্ছে এ চুক্তির ফলে এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হলে এর কোনো দায়ভার ও ক্ষতিপূরণ দেবে না হোন্ডা কিংবা বিএসইসি। ফলে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি এটলাস বাংলাদেশের শেয়ারহোল্ডারদের পরিণতি কি হবে তা এখন দেখার বিষয়। ধারণা করা হচ্ছে এ চুক্তির ফলে এটলাসের শেয়ারের দাম আশংকাজনক হারে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বয়েছে।

এ বিষয়ে এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আহমেদ বলেন, দীর্ঘ দিন হোন্ডার সঙ্গে এটলাসের চুক্তি ছিল। এখন যেহেতু বিএসইসি নিজেই হোন্ডার সঙ্গে চুক্তি করছে সেহেতু আমরা অন্য কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করবো। তবে এ চুক্তি বাতিলের ফলে শেয়ার হোল্ডারদের কোনো ক্ষতি হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চুক্তি শেষ হলে হয়তো ব্যবসার একটু পরিবর্তন হবে। কিন্তু কোম্পানির অবকাঠামোগত কোনো পরিবর্তন হবে না। হোন্ডার সঙ্গে এটলাসের চুক্তি প্রায় শেষ কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বোর্ডের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর আমরা হিরো কোম্পানির মোটরসাইকেল সংযোজন করবো।

জানা গেছে, স্বল্প মূল্যে মোটরসাইকেল সরবরাহের জন্য ১৯৬৬ সালে এটলাস প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত করা হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে কোম্পানিটিকে জাতীয়করণ করা হয়। এটি তত্ত্বাবধানের দায়ভার দেয়া হয় ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন (বিএসইসি)-এর ওপর। ১৯৮৭ সালে শিল্পনীতি অনুযায়ী এটিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত করা হয়। কোম্পানির প্রদত্ত মূলধন ২৩ কোটি ৭০ লাখ ৩৭ হাজার ২০ টাকা। এতে সরকারি শেয়ার ৫১ শতাংশ এবং জনগণের শেয়ার রয়েছে ৪৯ শতাংশ। এর বর্তমান শেয়ারের মূল্য ১শ ৭৫ টাকা। কিন্তু জাপানী ব্র্যান্ড হোন্ডাকে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসাবে। এর মোট ৭০ শতাংশ শেয়ারের মালিক হবে হোন্ডা এং ৩০ শতাংশের মালিক বিএসইসি। বহুজাতিক এই কোম্পানিটির কোনো পাবলিক শেয়ার থাকবে না! অথচ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন (বিএসইসি)-এর সঙ্গে হোন্ডার চুক্তির ফলে এ মাসের ৩১ তারিখে হোন্ডার সঙ্গে এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেডের চুক্তি বিলুপ্ত হচ্ছে। আর এর ফলে এটলাস ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায়ভার ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন (বিএসইসি) কিংবা হোন্ডা কেউ নেবে না বলে চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

দেশীয় শিল্প এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের কোনো তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দিয়ে বিদেশি কোম্পানিকে দেশে বিনিয়োগের সব ধরনের বন্দোবস্ত করে দিচ্ছে খোদ শিল্প মন্ত্রণালয়। বিদেশি ওই সব কোম্পানিকে জমি, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহের সব ধরনের সহয়তার নিশ্চয়তা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ছাড়ও দিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। তবে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে স্বেচ্ছায় সব ধরনের সহায়তা দিলেও দেশীয় উদ্যোক্তাদের কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে বহুমুখী জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। সময় মতো ব্যাংক লোন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ মিলেনা। আবার তা মিললেও পাওয়া যায় না পরিবেশ ছাড়পত্র। ফলে এসব কারণে অনেক উদ্যোক্তাই বিনিয়োগ বন্ধ করে দেয়। আবার অনেকেরই বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে থাকে বলে জানিয়েছে দেশীয় উদ্যোক্তারা।

সমপ্রতি জাপানের বিখ্যাত মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড হোন্ডার সঙ্গে চুক্তি করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ইস্পাত ও প্রকৌশল করপর্োরেশন (বিএসইসি)। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে হোন্ডা। প্রতিষ্ঠানের নাম হবে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড। চুক্তিতে বলা হয়েছে, হোন্ডা বাংলাদেশে মোটরসাইকেল যন্ত্র সংযোজন এবং উৎপাদন করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিনিয়োগ করবে ৬১ কোটি টাকা। মোট মূলধনের ৭০ শতাংশের মালিকানা থাকবে হোন্ডার এবং ৩০ শতাংশের মালিক হবে ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন (বিএসইসি)। এতে কর্ম সংস্থান হবে ১শ মানুষের। কিন্তু আশংকার বিষয় হচ্ছে, চুক্তি অনুযায়ী হোন্ডা পাবলিক লিমিটেড নয়, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেল তৈরি শিল্পে বাংলাদেশের ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। বেড়েছে কর্ম সংস্থান। দেশে তৈরি মোটরসাইকেল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে। জিডিপি'তেও এ শিল্প ভালো অবদান রাখছে। ফলে দেশে মোটরসাইকেলের চাহিদা, উৎপাদন এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের কথা বিবেচনা করে ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন (বিএসইসি)-এর চুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর তা নাহলে রীতিমতো হুমকির সম্মুখীন হবে দেশীয় শিল্প। উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে গাজীপুরের শ্রীপুরে ভাড়া করা জমিতে কারখানা গড়ে তোলা হবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত