নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ৩০ পৌষ ১৪২৭, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪২
জনতার মত
ফসলি জমি রক্ষা করুন
মো. শাকিবুল হাসান
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষ কৃষি পেশার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অপরদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করে তোলার একটি প্রধান খাত হলো কৃষি। এদেশের প্রধান পেশা কৃষি অবহেলিত করে অর্থনৈতিকভাবে দেশ কখনো সচল হতে পারবে না। তাই সবার আগে দেশের প্রধান পেশা কৃষি ও কৃষককে রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষির উন্নয়ন হলে দেশ বাঁচবে, দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে, জাতি হিসাবে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ আমাদের দেশের কৃষি ও কৃষকের অবস্থা শোচনীয়। আমাদের সমগ্র অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান কৃষকদের, তারপরও এই কৃষকদের সম্মানের সবচেয়ে নিচু পর্যায়ে দেখা হয়। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আজ আমাদের প্রধান পেশা কৃষির অবস্থান তেমন ভালো না। কৃষি জমির পরিমাণ প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। যা আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য অশনিসংকেত। বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কারখানা নির্মাণে ব্যবহারের কারণে প্রতিদিনই কমছে কৃষি জমি। দিনে প্রায় ২ হাজার বিঘা জমি কৃষি থেকে অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। সুতরাং এটা সহজেই অনুমেয় যে, দেশে কৃষি জমির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমছে। এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার, কুষ্টিয়া, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলায় কৃষি জমির বাণিজ্যিক ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। তবে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য না পাওয়াকেই 'ফসলি জমি হারানোর' প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন গবেষকরা। পরিকল্পনাহীন নগরায়নের ছোবলে বৈচিত্র্যও হারাচ্ছে। আছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ছোবল। প্রতিবছর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে সহস্রাধিক হেক্টর জমি। আবাসন ও নির্মাণ কাজে চলে যাচ্ছে কমবেশি আরোও প্রায় তিন হাজার হেক্টর। নানাভাবে কৃষি জমি অনুৎপাদনশীল কর্মকা-ে ব্যবহার হচ্ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দশকে দেশে কৃষি জমির ব্যাপক সংকটের সম্ভাবনা দৃশ্যমান। সংশ্লিষ্ট সব গবেষণার ফলাফলেই কৃষি জমি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া এবং অচিরেই বিপন্নতা সৃষ্টির আশঙ্কা করা হয়েছে। কিন্তু সেই বিপন্নতা মোকাবিলায় সরকারের কোনো সমন্বিত পদক্ষেপ নেই। নেই আধুনিক বাস্তবসম্মত কোনো আইন। অনেকে চাকরির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় কৃষি জমির কোনো প্রয়োজনবোধ করছেন না। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বছরে যে পরিমাণ কৃষি জমি কমছে, তার অর্ধেকই যাচ্ছে অনুৎপাদনশীল খাতে। অপরিকল্পিত ব্যবহারের ফলে ৬৫ শতাংশ জমির উর্বরা শক্তিও হারিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এখনই কৃষি জমি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। কৃষি জমি কমে গিয়ে অনুৎপাদন খাতে চলে যেতে থাকলে জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কৃষি খাতে ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে তা নয়, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কারণেও কমছে কৃষি জমি। 'জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতি-২০১০' এবং 'কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি জোনিং আইন-২০১০' অনুযায়ী কৃষি জমি কৃষি কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কোনো কৃষি জমি ভরাট করে বাড়িঘর, শিল্প-কারখানা, ইটভাটা বা অন্য কোনো অকৃষি স্থাপনা কোনোভাবেই নির্মাণ করা যাবে না উল্লেখ করে একটি নামমাত্র আইন থাকলেও এর শাস্তির বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তাই আইন পরিবর্তন করে উর্বর ও কৃষি উপযোগী জমির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে। ফসলি জমি শুধু ফসল আবাদের জন্যই ব্যবহারের অন্যথায় কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে গ্রামের ফসলের জমি নষ্ট করে মাছ চাষ করার জন্য হাজার হাজার একর জমিতে ৮ থেকে ১০ ফুট গভীর করে মাছের মাছ চাষ করার জন্য জমি কেটে পুকুরে পরিণত করা হচ্ছে। সরকারি আইন অনুযায়ী ফসলি জমি নষ্ট করা অপরাধমূলক কাজ হলেও এক শ্রেণীর অসাধু লোক সরকারের আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙুলি প্রদর্শন করে অহরহ এ কাজটি করে যাচ্ছে। মাছের ব্যবসায় অগ্রগতির জন্য তারা ব্যবহার করছে ড্রেজার মেশিন। ড্রেজার মেশিনে মাটি কাটার ফলে আশপাশের অনেক জমি ও বাড়িঘর ভেঙে পড়ছে। যার কারণে অনেক বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এর আশপাশের বাড়িঘর ও জমিগুলো। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ৫-১০ বছরের মধ্যে দেশে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়ার সম্ভাবনা বেশি। গ্রামাঞ্চলের বেশির ভাগ অসহায় ও অসচ্ছল মানুষগুলোর কারণে দ্রুত ফসলি জমি নিঃস্ব হতে চলছে। কারণ পরিবারে লোকসংখ্যা বেুিশ হওয়ার কারণে এক বাড়িতে সবলোক বসবাস করতে পারছে না। যার কারণে বাড়ির আশপাশের ফসলের জমিতে কোনো রকমে একটা ঘরবাড়ি বানিয়ে জীবনধারণ করে। ফসলি জমি রক্ষা করতে গ্রামাঞ্চলেও সরকারিু বেসরকারি ভাবে গৃহায়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে বহুতল ভবন নির্মাণ করতে পারলে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ঠিক রাখা যাবে। এছাড়াও জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, ফসলি জমি রক্ষা করা যাবে না। অতিদ্রুত গ্রামাঞ্চলের ফসলি জমি রক্ষার জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

মো. শাকিবুল হাসান : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীমে - ১৩
ফজর৩:৫৪
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:৩৫
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:১৭সূর্যাস্ত - ০৬:৩০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৪৭১৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.