নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১ মাঘ ১৪২৭, ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪২
ট্রাম্প যুগের অবসান- বাইডেনের বন্ধুর পথচলা শুরু
মো. শফিউল্লাহ : লেখক
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্পের মতো এমন প্রেসিডেন্ট দেখা যায়নি কখনোই। ক্ষমতা গ্রহণের শুরুর দিন থেকে ক্ষমতার শেষ দিন পর্যন্ত জন্ম দিয়েছেন নানা বিতর্ক, হয়েছেন বারবার সমালোচিত। ডোনাল্ড ট্রাম্প, সমালোচনা এবং বিতর্ক এতোদিন যেন একই সুতোই গাঁথা ছিল। ট্রাম্প সারাক্ষণ টুইটার সরগরম রাখতেই যেন বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সাথেও সুসম্পর্ক রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বরং সৃষ্টি করেছেন দূরত্ব, উসকে দিয়েছেন বর্ণবৈষম্য। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি দুবার অভিশংসীত হলেন। ট্রাম্প, তার চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রে কেবল বিভক্তিরই জন্ম দেননি বরং হুমকিতে ফেলেছেন গণতন্ত্রকেও। জো বাইডেনের ক্ষমতা গ্রহণে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র মুক্তি পেল একজন পাগলাটে, উচ্চাভিলাষী, উগ্রবাদী প্রেসিডেন্টের হাত থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আশার প্রদীপ হতে পারেন জো বাইডেন। নিঃসন্দেহে বলা যায় যুক্তরাষ্ট্র পেয়েছে একজন পরিপক্ব, দক্ষ, বিচক্ষণ এবং দূরদৃষ্টি সম্পূর্ণ প্রেসিডেন্ট। যিনি পাঁচ দশক ধরে রাজনীতিতে আছেন। বহুবার সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে দুই মেয়াদে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই বলা চলে জো বাইডেন রাজনীতির মাঠে একজন পরিপক্ব খেলোয়াড়। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, করোনা মহামারীর প্রভাবে অর্থনীতির যে নাজুক দশা এবং ভেঙে পড়া পররাষ্ট্রনীতি তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনতে বেশ বেগ পেতে হবে বাইডেন প্রশাসনকে। তবু বাইডেনে ইতিবাচক প্রত্যাশা করতেই পারেন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ।

জো বাইডেন তার উদ্বোধনী ভাষণে আশার বাণী শুনিয়েছেন পুরো বিশ্বকে। গেয়েছেন গণতন্ত্রের জয়গান এবং দিয়েছেন ঐক্যের ডাক। তিনি বলেন, ্তুগণতন্ত্রের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ঐক্য। যেখানে ঐক্য নেই, সেখানে শান্তি নেই। সেখানে শুধু হানাহানি ও ঘৃণা থাকবে। এই হানাহানি ও নৈরাজ্যকর অবস্থা নিয়ে কোনো জাতি এগোতে পারে না।্থ তিনি দলমতনির্বিশেষে সবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশবাসীকে বলেছেন, তাঁরাও যেন নিজেদের রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট না ভাবেন। এক দেশ এক জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এই করোনা মহামারীর সময়ে। এখন দেখার বিষয় কতোটা সমর্থন আদায় করতে পারেন রিপাবলিকানদের থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শপথ গ্রহণের দিন থেকেই নেমে পড়েছেন তার কাজে। প্রথম দিনেই ১৭টি এবং দ্বিতীয় দিনে ১১টি নির্বাহী আদেশ, স্মারক এবং ঘোষণাপত্রে সই করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরা, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাবর্তন, ট্রাম্পের মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ সিদ্ধান্ত স্থগিত, কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন প্রকল্প বাতিল। তাছাড়া বিশেষ কিছু পরিকল্পনা এঁটেছেন যার মাঝে রয়েছে

১. ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছিলো বাইডেন সেখানে দ্রুত ফেরত আসার ঘোষণা দেন।

২. করোনা মহামারীর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর সংখ্যা আড়াই কোটি ছাড়িয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজারের মতো। করোনার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন। ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে ১০ কোটি টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। সুন্দরভাবে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছেন। সে অনুযায়ী তিনি কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন।

৩. করোনা মহামারী পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে নিতে ১৯৮ পৃষ্ঠার জাতীয় কৌশলপত্র বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন এবং করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, করোনা মোকাবিলায় বাইডেনের প্রস্তাবিত ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার প্রণোদনা বিল দ্রুত পাস করতে সিনেটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাইডেন প্রশাসনের জাতীয় অর্থনীতি পর্ষদের পরিচালক ব্রায়ান ডিজ।

৪. বর্ণবৈষম্য কমাতে ট্রাম্পের ১৭৭৬ কমিশনের ইতি ঘটিয়েছেন সদ্য শপথ নেয়া জো বাইডেন এবং নিয়োগ দিয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষামন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা লয়েড অস্টিনকে যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম।

৫. করোন ভাইরাস মহামারীর সময় শিক্ষার্থীদের বিতাড়ন এবং ঋণ স্থগিত সংক্রান্ত ট্রাম্পের আদেশ বাতিল করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

৬. সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য যে ্তুডাকা্থ কর্মসূচি চালু করেছিলেন তা বাতিলের জন্য ট্রাম্প যে তোড়জোড় করছিলেন সেই জটিলতা দূর করতে নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন জো বাইডেন।

৭. ট্রাম্পের পরিবেশ নীতি থেকে সরে আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে তার নির্বাহী আদেশে।

৮. এই করোনা মহামারীর সময়ে আমেরিকাতে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাইডেন বলেন, তিনি ক্ষুধার্ত আমেরিকানদের সরকারি সুবিধা বাড়ানোর নির্দেশ দেবেন।

৯. ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট নীতি থেকে বেরিয়ে মিত্রদেশের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করে আবার বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন জো বাইডেন। তিনি বলেন, ্তু বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সবদেশ এক হয়ে কাজ করতে হবে। সবার সাথে সুসম্পর্ক রক্ষায় কাজ করবে বাইডেন প্রশাসন।্থ ইতোমধ্যে জো বাইডেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ এবং ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন। টেলিফোনে নিজেদের সাথে সম্পর্ক নিবিড় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং করোনা মহামারী মোকাবিলায় সবাই এক হয়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

১০.অভিবাসন আইনে পরিবর্তন আনতে প্রস্তাব দেন বাইডেন । যদি অভিবাসন আইনে পরিবর্তন আনতে পারেন তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ১.১০ কোটি অবৈধ অভিবাসীর নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

১১. পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার সাথে আমেরিকার যে নিউ স্টার্ট (স্ট্রাটেজিক আর্মস রিডাকশান ট্রিটি) চুক্তি রয়েছে সেটার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখে। মেয়াদ শেষ হবার পূর্বেই দুই দেশ তাদের চুক্তি আরো ৫ বছর বাড়াতে সম্মত হয়েছেন।

তাছাড়া চীনের সাথে বৈরিতা হরাস করতে চুক্তি করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তালেবান এবং ইরান ইস্যুতে বলেছেন, তাদের সাথে শান্তি চুক্তি পুনরায় পর্যালোচনা করবে বাইডেন প্রশাসন। সৌদি এবং ইয়েমেনের মাঝে যে সংকট চলমান রয়েছে এবং ট্রাম্প সৌদির পক্ষে যুদ্ধে সমর্থন দিয়েছিলেন সে সমর্থন প্রত্যাহার করবেন বলে জানিয়েছেন জো বাইডেন। ফিলিস্তিন এবং ইসরায়েল বিষয়ে দুই রাষ্ট্র সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে বহু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে জো বাইডেন প্রশাসনকে। বিশেষ করে রিপাবলিকানদের সমর্থন আদায় এবং তাদের সাথে ঐক্য গঠন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইতোমধ্যে পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠে নেমে পড়েছেন জো বাইডেন।

সব পরিকল্পনায় যে তার প্রশাসন সফল হবে এমনটা নয়। কিছু ইস্যুতে রিপাবলিকানদের কাছে হোঁচট খেতে হবে। জো বাইডেন দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই কাগজপত্র ছাড়া অভিবাসীদের দেশটি থেকে বিতাড়নের সব প্রক্রিয়া ১০০ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু টেক্সাসের জেলা জজ ড্রিউ টিপ্টন সাময়িকভাবে তা স্থগিত করেছেন। আদালতের এই রায়ে বাইডেন প্রশাসনের অভিবাসন ব্যবস্থা সংস্কার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হলো। এরকম আরো বিষয়ে হোঁচট খেতে পারেন। তবু আশার আলো খুঁজে পাওয়া যায় বাইডেনের পরিকল্পনায়।

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ইতিবাচক পরিবর্তনের আশায় বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন। এখন দেখার বিষয় জো বাইডেন তার পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ভাবমূর্তি কতোটা ফেরাতে সক্ষম হন, ভঙ্গুর অর্থনীতিকে কতোটা সচল করতে পারেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব নেতৃত্বে কতোটা জায়গা করে দিতে পারেন।

মো. শফিউল্লাহ : লেখক
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৫
ফজর৪:৪৪
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৭
মাগরিব৫:২৮
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:০০সূর্যাস্ত - ০৫:২৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২১৩৫২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.