নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১ মাঘ ১৪২৭, ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪২
সর্বজনীন মুক্তিই পারে শোষণমুক্ত বিশ্ব গড়তে
মো. ফুয়াদ হাসান
পৃথিবীতে খুব আলোচিত শব্দগুলোর মধ্যে একটি হলো স্বাধীনতা। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে হাজারও মানুষের রক্ত ঝরেছে স্বাধীনতার জন্য। কেউবা বছরের পর বছর রক্ত দিয়েছে, অত্যাচার সহ্য করেছে স্বাধীনতা নামক সোনার হরিণটির জন্য। অর্জনের মধ্য দিয়ে কেউ হাসতে পেরেছে বিজয়ের হাসি। পরাজয়ের মধ্য দিয়ে কেউবা বরণ করেছে অত্যাচারের মল্ল। বর্তমান পৃথিবীতেও অনেকে রক্ত দিচ্ছে স্বাধীনতার জন্য। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বা মুসলিম বিশ্বের বৃহৎ সংকটগুলোর মধ্যে একটি মায়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট। যারা স্বাধীনভাবে বাঁচার জন্য এখনো রক্ত দিচ্ছে। আসলে স্বাধীনতা কি? কেন পৃথিবীর ইতিহাসে এত রক্ত এই স্বাধীনতার জন্য? পৃথিবীতে এমন কেউ কি আছে যে সুন্দর, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনের স্বপ্ন দেখে না? হ্যাঁ! এই নিশ্চিত ও নিরাপদ জীবনযাপনের জ্বালানিই হলো স্বাধীনতা। স্বাধীনতার ইংরেজি প্রতিশব্দ 'খরনবৎ'। এটি ল্যাটিন শব্দ ষরনবৎ থেকে এসেছে। যার অর্থ স্বাধীন বা মুক্ত। শব্দগত অর্থে স্বাধীনতা বলতে ব্যক্তির ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করাকে বুঝায়। তবে এই স্বাধীনতা অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তির ইচ্ছের প্রতিফলন ঘটাতে গিয়ে অন্যের ক্ষতি করে। তাই ব্যাপক অর্থে স্বাধীনতা হলো অন্যের কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি না করে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করাকে বুঝায়। গত শতাব্দীর শেষের দিকে পৃথিবীর আকাশে উড়েছিল লাল-সবুজের বিজয়ের পতাকা। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের এক সাগর রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের সম্মানের বিনিময়ে অর্জিত বাঙালির স্বাধীনতা। একটি নাম, একটি জাতি, পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবার অধিকার, একটি পরিচয় স্বাধীন বাংলা। ভাষা-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিল বীর বাঙালির হৃদয়ে। এর পরিপূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছিল ১৭৯১ সালে স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে। অন্যায়, অসাম্যের কাছে মাথা নত না করে, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক মুক্তি বা স্বাধীনতা অর্জনই ছিল সে সংগ্রামের মূল চেতনা। মুক্তির যে দৃঢ় চেতনা বুকে লালন করে বীর বাঙালিরা যুদ্ধে নেমেছিল। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও কী সেই চেতনার বাস্তব রূপ পেয়েছে? নাকি এখনো দোদুল্যমান রয়েই গেছে! সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করছে। বর্তমানে বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে উজ্জ্বল নক্ষত্র বাংলাদেশ। নিশ্চয়ই এটা আমাদের জন্য বড় অর্জন। তবে এই আনন্দের বিপরীতে বিষাদও কিন্তু কম নয়। দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে লাগামহীনভাবে অতি ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধি, ধনী-দরিদ্রর আকাশচুম্বী বৈষম্য, দ্রত গতিতে শিক্ষিত বেকারত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ-এক্সেরের মতে, অতিধনীর বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম এবং ধনী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির হারের দিক থেকেও বাংলাদেশ এগিয়ে, বিশ্বে তৃতীয়। সম্প্রতি দৈনিক কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে জিনি সহগে বাংলাদেশের অবস্থান দশমিক ৮ শতাংশ (সূত্র : কালেরকণ্ঠ ১৭/০৯/২০২০)। ধনীরা আরো ধনী এবং গরিব আরো গরিব হচ্ছে। কিছু সংখ্যক মানুষ সফলতার মহাশূন্যে পারি দিচ্ছে অন্যদিকে বৃহৎ জনগোষ্ঠী তলানিতে পড়ে রয়েছে। বাংলাদেশের অন্তত ৬০ শতাংশ জনগোষ্ঠী তরুণ কর্মক্ষম। যাদের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছর। এত বিপুলসংখ্যক কর্মক্ষম মানুষের কর্মের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছে দেশযন্ত্র। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য মতে, করোনাভাইরাস সংকটের কারণে বাংলাদেশে প্রতি চারজন যুবকের মধ্যে একজন কর্মহীন বা বেকার রয়েছে (২৭.৩৯%)। বেকারত্ব হারের বিচারে দক্ষিণ এশিয়ার আট দেশের মধ্যে বাংলাদেশ তৃতীয়। সরকারি চাকরিতে শূন্য পদের সংখ্যা ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮। করোনার কারণে গত ৬ মাস ধরে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সব ধরনের নিয়োগ স্থগিত থাকায় এ সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়িয়েছে। এসব পদে নিয়োগ পেতে অপেক্ষায় আছেন ২০ লাখের বেশি শিক্ষিত বেকার। পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ডিগ্রি আছে এমন বেকারের সংখ্যা ৪ লাখ। নিরাপদ জীবন, খাদ্যের নিশ্চয়তা, উপযুক্ত মজুরি, সরকারি চাকরি বা কর্ম লাভের অধিকারও ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ধরনগুলোর অন্তর্ভুক্ত। স্বল্প সংখ্যক ধনীর আকাশসম সফলতা, বিপরীতে বৃহৎ সংখ্যক গরিবের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র কি স্বাধীনতার চেতনাকে ব্যাহত করে না? এসব আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার বিপরীত নয় কি? আসলে, স্বাধীনতা হলো ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল ক্ষেত্রে মুক্তি ও নিরাপত্তাকে বুঝায়। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মলগ্নে দেশের বীর সন্তানরা যে স্বপ্ন বুকে লালন করে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে গিয়েছিল তার প্রতিফলনই স্বাধীনতা। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অন্যায়, আত্যাচারমুক্ত নিরাপদ নির্বিঘ্ন জীবনই হলো স্বাধীনতা। পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা আর শ্রদ্ধা বোধের সুন্দর পৃথিবীই হলো স্বাধীনতা। ছোট-বড়, উঁচ্চ-নিচু, সাদা-কালো, ধনী-দরিদ্র ব্যবধান ভুলে পরস্পরের প্রতি ভ্রাতৃত্ববোধই স্বাধীনতা। বিখ্যাত মুনীষী হার্বার্ট স্পেন্সার ঠিকই বলেছেন, 'স্বাধীনতা বলতে খুশিমতো কাজ করাকে বুঝায়, যদি উক্ত কাজ দ্বারা অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতা উপভোগে বাধার সৃষ্টি না হয়।'

মো. ফুয়াদ হাসান : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ১৬
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৪
আসর৪:১৯
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৬:০০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৯১১৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.