নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১ মাঘ ১৪২৭, ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪২
আশায় বুক বেঁধে আছেন পাটকল শ্রমিকরা
খুলনা থেকে বি এম রাকিব হাসান
শিল্পাঞ্চল নামে খ্যাত খুলনার নিউজপ্রিন্ট মিল ও হার্ডবোর্ড মিল বন্ধ হয়ে গেছে বেশ আগে। যে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ছিল তাও সমপ্রতি বন্ধ হওয়ায় খুলনা মহানগরীর খালিশপুর এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন মানুষ। আর এতে মৃতপ্রায় অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে 'খুলনার শিল্পাঞ্চল'। তবে পাটকলগুলো চালু হবে, এমন আশায় বুক বেঁধে আছেন শ্রমিকরা। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) সূত্রে জানা গেছে, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের মধ্যে খালিশপুরে চারটি ও ভৈরব নদের ওপর পাড়ে দিঘলিয়ায় একটি পাটকল রয়েছে। এছাড়া ফুলতলার আটরা শিল্প এলাকায় দুটি ও যশোরে দুটি পাটকল রয়েছে। মিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সবখানে ফাঁকা। এক সময় মিলের খট খট শব্দ আর শ্রমিকদের পদচারণায় মুখর থাকত যে এলাকা সেখানে বিরাজ করছে ভুতুড়ে পরিবেশ। আশপাশে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবাসিক শ্রমিকদের জন্য গোল্ডেন হ্যান্ডসেকের টাকা নেওয়ার অন্যতম শর্ত ছিল ঘর-বাড়ি পুরোপুরি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে কর্তৃপক্ষকে জায়গাটি বুঝিয়ে দিতে হবে। এ কারণে টাকা পাওয়ার আশায় সবাই নিজেদের ঘরগুলো ভেঙে ট্রাকে করে সেখান থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে চলে গেছেন। বেশিরভাগই গেছেন গ্রামের বাড়িতে। খুলনা ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রধান গেটের সামনে দাঁড়িয়ে শোনা যাচ্ছে ঘর ভাঙার শব্দ। পশ্চিম কলোনির দিকে যেতেই চোখে পড়ে কয়েকজন মিলে শাবল, কোদাল আর হাতুড়ি দিয়ে ১৩ নম্বর ভবনের নিচের একটি পাকা ঘর ভাঙার চেষ্টা করছেন। যার ঘর ভাঙা হচ্ছে তিনি মিলের মেকানিক্যাল বিভাগের শ্রমিক ফিরোজ কবির। তিনি ৩৫ বছরের চাকরি জীবনের ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই ভবনে বাস করেছেন। হ্যান্ডসেকের টাকা পেতে ঘর ভেঙে কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে হবে এ কারণে তা ভাঙছেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ে সবাই ওই ঘরে বড় হয়েছেন। বর্তমানে তিনি খালিশপুরের কবির বটতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় আছেন। যে টাকা পাওয়া যাবে তা দিয়ে ছোটখাটো ব্যবসা করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ফিরোজ কবির বলেন, মিল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমি নিজের জিনিস নিয়ে চলে যেতে পারব। সে কারণে আমার ঘর ভেঙে নিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কোম্পানির কোনো সুতাও আমি নিতে পারব না। শ্রমিকদের অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পাঁচ মাস হয়ে গেছে। যাদের ছেলে-মেয়ে একটু বড়, চাকরি করে তারা টিকে আছে। যাদের ছেলে মেয়ে চাকরি করে না তাদের যে কি অবস্থা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। বহু লোকের আহাজারি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মিল চালুর চেষ্টা করছেন। কিছু আমলার কারণে, কিছু পরিস্থিতির কারণে মিলগুলো বন্ধ হয়ে গেল। এই মিল কোনো দিনও বন্ধ হওয়ার কথা না, মিলে লাখ লাখ টাকা লাভ হওয়ার কথা ছিল। খুলনা শিপইয়ার্ড লসে লসে জর্জরিত হয়ে গেছিল। নৌবাহিনী দায়িত্ব হাতে নেওয়ার পর এখন কোটি কোটি টাকা লাভ হচ্ছে। এই মিলগুলো একটা দায়িত্ববান লোকের হাতে দিলে এখনও কোটি কোটি টাকা লাভ হবে। যাকে মিল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে তাকেই লাভ-ক্ষতি বুঝিয়ে দিতে হবে। মিলগুলো সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর হাতে দিলে আরও ভাল হয়। এই দুই বাহিনীর হাতে দিলে মিল পানির মতো চলবে। ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হেমায়েত উদ্দীন আজাদী বলেন, সরকারের কথা ছিল মিলকে আধুনিকায়ন করে চালু করবেন। পাটমন্ত্রী বলেছিলেন, তিন মাসের মধ্যে মিল চালু করা হবে। এটা শোনার পর শ্রমিকরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু মিল না খোলায় শ্রমিকরা হতাশ। অনেক শ্রমিক বাসা ভাড়া করে অপেক্ষায় আছে মিল কবে চালু হবে, তারা কর্মসংস্থান পাবে। আমরা চাই সরকারি সম্পদ সরকারের হাতে থাকুক। সরকারের হাতে থেকেই মিলটি চালু হোক।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৮
ফজর৪:৪৬
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৫
মাগরিব৫:২৬
এশা৬:৩৯
সূর্যোদয় - ৬:০২সূর্যাস্ত - ০৫:২১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২১৫৪২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.