নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ২০ জুলাই ২০২১, ৫ শ্রাবণ ১৪২৮, ৯ জিলহজ ১৪৪২
জনতার মত
বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব চাই
জুয়েল রানা
একটি সুশিক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের বায়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করতে হবে। এটা করা গেলেই আমরা সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারব। পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে বায়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। তাদের এ পরামর্শ যেকোনো ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সুতরাং তাদের প্রতি একটু বেশি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। বিপদে-আপদে পাশে থেকে সহানুভূতি দেখালে তারা অত্যন্ত খুশি হয়। এটা তাদের কাছে একটি বড় পাওয়া। তাদের ভালো চোখে দেখলে আল্লাহ তায়া'লা আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন এবং সেই সাথে আমাদের সামগ্রিক জীবন কল্যাণকর হয়ে উঠবে।

বায়োজেষ্ঠদের সাথে কথা বলার সময় স্বর নরম করে মার্জিত ভাষায় কথা বলা উচিত। এতে তারা যেকোনো বিষয় সহজে বুঝতে পারে। আবার তাদের কথাও মনোযোগ দিয়ে শোনা দরকার। আমরা অনেক সময় তাদের গুরুত্ব দিতে চাই না। যার ফলে তারা মানসিক কষ্টের শিকার হন। আর এটা একজনের জীবনকে সমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে সহযোগিতা করে। তাই এসব বিষয়ে সবাইকে বেশি সচেতন হতে হবে। পারিবারিকভাবে প্রতিটি পরিবারে অধিকাংশ সময় বায়োজ্যেষ্ঠরা অবহেলার শিকার হন। এটা আসলেই অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার! এই 'অবহেলা' শব্দটি তাদের জন্য মোটেও কাম্য নয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তাদের জীবনে যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়ায়। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বয়স্কদের প্রতি কোনো অবহেলা দেখানো উচিত নয়। তাদের সাথে সর্বদাই ভালো ব্যবহার করতে হবে। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ পরিবারের বায়োজেষ্ঠ লোকেরা বিভিন্নভাবে অবহেলা-অনাদরের শিকার হচ্ছে। অপ্রত্যাশিত কথার মাধ্যমে তাদের মানসিকভাবে আঘাত করা হয়ে থাকে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গর্হিত কাজ। বিশেষ করে পিতা-মাতা যখন বয়স্ক হয়ে যায়, তখন সন্তানসন্ততি, পুত্রবধূ ও বাড়ির অন্য লোক কর্তৃক বেশি আঘাত আসে। সময়ের পরিক্রমায় সন্তানরা তাদের অবহেলা করে। এমনকি রোগ- শোকেও পাশে থাকতে চায় না। অথচ একজন বৃদ্ধ মানুষ এ বয়সটাতেই আপনজনদের কাছ থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা করে। কিন্তু দিনশেষে হতাশা ছাড়া কিছুই মেলে না। হায়! আফসোস! সময় চলে যায় তার স্বীয় গতিতে। এদিকে মানুষের শক্তি, বুদ্ধি হারিয়ে যায়। চুপসে যায় দেহের সকল চামড়া। এ কোন পাপের ফল? না, এটা পাপের ফল নয়। এটা মন্দ ভাগ্য। বাবা-মা খেয়ে না খেয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে সন্তানদের জন্য ধনসম্পদ গড়ে তোলে। আর সেই সন্তানই কিনা তাদের দুঃখের ভাগীদার হতে চায় না! কিন্তু ঠিকই তাদের গড়া ধন সম্পদ অনায়াসে ভোগ করে। অথচ নিজ বাবা-মাকে একবেলা খাবার দিতেই নেই নেই স্বভাব করে। কী একটা দুরবস্থা! তবে সব পরিবারই যে খারাপ এমন নয়। এখনো সিংহভাগ পরিবারে সুখ-শান্তি আছে বলে মনে করি। সেসব পরিবারের বায়োজ্যেষ্ঠরাও সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করে। আপাতত, এটাই সুসংবাদ।

এতো গেল পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা। এখন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বায়োজ্যেষ্ঠদের গুরুত্ব নিয়ে একটু বলি। রাজনীতি করা প্রতিটা মানুষের অধিকার। একটি সমাজ তথা রাষ্ট্রের জনগণের সমগ্রিক কল্যাণ, সুন্দর পরিকল্পনা ও সুদূরপ্রসারী নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। আর এই দারুণ কাজটা রাষ্ট্রের বায়োজ্যেষ্ঠ্য নীতিনির্ধারকেরাই সম্পন্ন করে সাধারণ জনগণের মতামতের ওপর ভিত্তি করে। সুতরাং নিংসন্দেহে বলা যায় যে, বায়োজ্যেষ্ঠরা আমাদের সামগ্রিক জীবনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই তাদের প্রতি সবসময় ইতিবাচক মনোভাব রাখতে হবে। কেননা, তারা পরিবার, সমাজ তথা সমগ্র রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

জুয়েল রানা : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ২৯
ফজর৪:০৩
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৩
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:২৬সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২০৪৮৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.