নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ২০ জুলাই ২০২১, ৫ শ্রাবণ ১৪২৮, ৯ জিলহজ ১৪৪২
মেঘনার ভাঙনে হাটবাজারসহ বিস্তীর্ণ জনপদ বিলীন
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর-রামগতিতে মেঘনার স্রোতের ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চোখের সামনেই নদীতে ভেঙে পড়ছে হাটবাজারের দোকানঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মক্তব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলের মাঠ, ঘরবাড়িসহ বিস্তীর্ণ জনপদ। চলতি বর্ষা মওসুমের শুরুতেই নদীর ভাঙন মারাত্মক রূপ নিয়েছে।জেলার কমলনগর উপজেলার চরকালকিনি ইউনিয়নের নাছিরগঞ্জ বাজারের প্রায় অর্ধেকের বেশি দোকানঘর ইতোমধ্যেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

মারাত্মক হুমকির মুখে বাজারের অবশিষ্ট দোকানপাট, বাজার এলাকার চরকালকিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি জামে মসজিদ, মক্তব, মোবাইল টাওয়ার, লোকালয়ের বসতবাড়িসহ বিস্তীর্ণ জনপদ। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার সাইফুল্লাহ বলেন, এইভাবে ভাঙতে থাকলে অচিরেই তার ইউনিয়নের অবশিষ্ট অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। সমপ্রতি একনেকের সভায় রামগতি-কমলনগর রক্ষায় একটি প্রকল্প অনুমোদন হলেও কাজ শুরুর আগে আরো কী পরিমাণ ভেঙে পড়ে এমন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীর তীরবর্তী মানুষের। দিশেহারা ব্যবসায়ী ও স্থানীয় এলাকাবাসী নিজস্ব উদ্যোগে 'জংলাবাঁধ' দিয়ে চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকাবাসী।নাছিরগঞ্জ বাজারের ঘর-মালিক ও স্থানীয় চরমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মেম্বার বলেন, পাঁচ কিলোমিটার দূরে থাকা মেঘনা এখন এ বাজারের দোকান-ঘর, স্বপ্নের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে নিয়ে যায়। তালতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কাওমি মাদরাসা ও জামে মসজিদসহ বাজারটি বিলীন হওয়ার পথে। ভাঙনের শিকার আবুল কাশেম মেম্বারসহ ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, এবারের মেঘনার ভাঙনের ভয়াবহতা বিগত সময়ের তুলনায় তিনগুণ বেশি। গত ১০ বছরে লক্ষাধিক মানুষ মেঘনায় ভিটেমাটি ছাড়া হয়েছে। সবশেষ গত দু'বছর মেঘনার ভাঙন ছাড়াও লোকালয় ও ফসলি জমিতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ছে। চলতি বছরে নতুন সমস্যা যোগ হয়েছে জোয়ারের পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা। এমন পরিস্থিতিতে ভাঙনকবলিত মেঘনাপাড় এলাকায় স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি তাদের।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর এবং কমলনগর উপজেলার পশ্চিম সীমানার উত্তর-দক্ষিণ এবং রামগতি উপজেলার পশ্চিম ও দক্ষিণ বরাবর মেঘনানদী বহমান। কমলনগর উপজেলায় মেঘনার দৈর্ঘ্য ১৭ কিলোমিটার এবং রামগতিতে ২০ কিলোমিটার। দুই উপজেলার ৩৭ কিলোমিটার মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রতিনিয়ত চলছে ভাঙন খেলা। ১৯৯১ সালের আদমশুমারি প্রতিবেদনে সাবেক রামগতি বর্তমানে (রামগতি-কমলনগর) উপজেলার আয়তন ছিল ৬৬৩ বর্গ কিলোমিটার। ২০ বছর পর ২০১১ সালের আদমশুমারি প্রতিবেদনে সে আয়তন উল্লেখ করা হয় ৫৯৪ বর্গ কিলোমিটার। যাতে দেখা যায় ২০ বছরে মেঘনায় বিলীন হয়ে যায় ৬৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা। ২০১১ সালের পর আর কোনো আদমশুমারি হয়নি। এর মধ্যে এ অঞ্চলে নদী ভাঙনের গতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

উপজেলা মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও চরফলকন সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা হাবিব উল্ল্যাহ বাহার জানান, তার লুধুয়া বাজারের মাদরাসাটি ভাঙনের শিকার হলে ফলকন বোর্ডঅফিস এলাকায় স্থানান্তর করা হয়।

তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে নদীভাঙন প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টেকসই বাঁধ নির্মাণে একনেকে সরকার একটা বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। এ ফাইলটি দ্রুত এগিয়ে নিয়ে এ এলাকার মানুষের ভিটেমাটি রক্ষা করা জরুরি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুজ জাহের সাজু বলেন, মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কল্পে সরকার ৩ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন, আশাকরি দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। এতে রামগতি-কমলনগর বাসীর ভিটেমাটি রক্ষা পাবে।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, জেলার চারটি উপজেলা উপকূলীয় হলেও রামগতি এবং কমলনগরে ভয়াবহ নদী ভাঙছে। দুটি উপজেলার মেঘনা নদীর ৩১ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিন হাজার ৮৯ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। প্রকল্পটির অর্থছাড় পেলে বাঁধের কাজ শুরু হবে বলেও জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ কর্মকর্তা।

লক্ষ্মীপুর-৪ (কমলনগর-রামগতি) আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) আবদুল মান্নান বলেন, দু'উপজেলার নদী ভাঙন রোধ করতে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। আশা করি প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর তীররক্ষা করা সম্ভব হবে। আমি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণের কাজটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পত্র পাঠিয়েছি।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ১৬
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৪
আসর৪:১৯
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৬:০০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৩৮৯৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.