নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ২০ জুলাই ২০২১, ৫ শ্রাবণ ১৪২৮, ৯ জিলহজ ১৪৪২
ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে যানজটে নাকাল ঘরমুখী মানুষ
স্টাফ রিপোর্টার
ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র একদিন। ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে রাজধানী ছাড়ছেন অসংখ্য মানুষ। অন্যান্য বারের মতো এবারো তাদের সঙ্গী নানা ভোগান্তি। বাস-ট্রেনের টিকিটের হাহাকারের মধ্যে যোগ হয়েছে যানজট। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকা পড়ে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ বাড়িফেরা মানুষজন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বনানী ফ্লাইওভার থেকে উত্তরা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজটের কারণে সকাল থেকেই ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অনেক বাস বনানী ফ্লাইওভার পার হয়ে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় আটকে আছে। অতিরিক্ত গাড়ির চাপে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে এ যানজট শুধুমাত্র ঢাকা থেকে বের হওয়ার সড়কে দেখা গেছে। বিপরীত পাশের রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

যানজটে আটকে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবার ঈদ যাত্রায় তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। কিন্তু এবার করোনা মহামারী কারণে রাজধানীতে মানুষের যাতায়াত কম থাকায় তারা আশা করেছিলেন ভোগান্তি

কম হবে। কিন্তু রাস্তায় অন্যান্য বারের মতোই যানজটে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। মো. আলকাস ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে এনা পরিবহণের একটি বাসে শায়েস্তাগঞ্জ যাচ্ছেন। বাস ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই যানজটে আটকা পড়েন তিনি। তিনি বলেন, মহাখালী থেকে ছাড়ার পর বনানী ফ্লাইওভার পার হয়ে বিমানবন্দর সড়কে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে যানজটে আটকা পড়ে আমাদের বহনকারী বাস। দীর্ঘক্ষণ গাড়ি এক জায়গায় আটকে আছে। মনে হচ্ছে এ যানজট পেরিয়ে বাড়ি যাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। সিলেটগামী এনা পরিবহণের বাসের চালক মো. হায়দার বলেন, ঈদ যাত্রায় এমন যানজট প্রতি বছরই হয়। তবে এবার বিমানবন্দর এলাকায় উন্নয়ন কাজের জন্য সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙা। কিছু অংশে সড়ক সরু হয়ে গেছে। তাই স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এ কারণেই এ সড়কে তীব্র যানজট দেখা দিচ্ছে। যা আশপাশের বিভিন্ন সড়কেও প্রভাব ফেলছে।

এদিকে প্রগতি সরণি সড়কে যানজটে আটকে থাকা রাইদা পরিবহণের চালক মিঠু শেখ বলেন, গত দুই দিন ধরেই বিমানবন্দর সড়কের যানজট। এ যানজটের প্রভাব পড়ছে প্রগতি সরণি সড়কেও। এখন কিন্তু ঢাকায় মানুষ অনেক কম। রাস্তাও প্রায় ফাঁকা, তবে ঈদ যাত্রার কারণে বিপুল পরিমাণ গাড়ি ঢাকা ছাড়ছে। এজন্য ওই সড়কে যানজটের তীব্রতা অনেক বেশি। আগামীকাল পর্যন্ত এ অবস্থা থাকবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের দেয়া বিধিনিষেধ শিথিল ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঈদ করতে লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিনে ঢাকা ছেড়েছেন প্রায় ১৭ লাখ মানুষ। শুধুমাত্র মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার পরিসংখ্যান এটি। এদিকে রাজধানীর বনানী হয়ে বিমানবন্দর এলাকা দিয়ে যেসব গাড়ি টঙ্গী ও গাজীপুরে প্রবেশ করছে সেসব গাড়ির যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। এ সড়কে সকাল ৮টা থেকে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় গাড়িতে বসে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের।

অন্যদিকে বিমানবন্দরের এ যানজটের প্রভাব পড়েছে কুড়িল-বিশ্বরোড ও প্রগতি সরণির রাস্তায়ও। সকাল থেকে প্রগতি সরণি এলাকায় হালকা যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র যানজটে রূপ নেয়। এ বিষয়ে ডিএমপি ট্রাফিকের উত্তরা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (উত্তরা পশ্চিম জোন) সাইফুল মালিক জানান, ঈদযাত্রা শেষ পর্যায়ে আছে। মানুষজন এখন দলবেঁধে রাজধানী ছেড়ে গ্রামে ফিরছে। এ সময়ে সামান্য যানজট হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আজকে শুধু ঈদযাত্রার গাড়ির চাপে বিমানবন্দর থেকে উত্তরা পার হয়ে টঙ্গী এলাকা পর্যন্ত যানজট দেখা দিয়েছে। কিন্তু রাস্তার অন্যপাশে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কারণ গত দুই দিনে প্রচুর পরিমাণ গরুবোঝাই ট্রাক ঢাকা প্রবেশ করেছে। এখন আর গরুবোঝাই ট্রাক ঢাকায় আসার সম্ভাবনা নেই। তাই ঢাকায় প্রবেশের সড়কে যানজট দেখা যাচ্ছে না।

অপরদিকে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে শেষ সময়ে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে শিমুলিয়া ঘাট হয়ে বাড়ি যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। গতকাল সোমবার সকালে শিমুলিয়া লঞ্চঘাটে যাত্রীর চাপ লক্ষ্য করা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে প্রতিটি লঞ্চে গাদাগাদি করে নদী পাড়ি দিচ্ছেন যাত্রীরা। গতকাল সকাল ১০টার দিকে লঞ্চঘাটের সড়কে যাত্রীর চাপ লক্ষ্য করা গেছে। গ্যাংওয়ে ও ঘাটের পন্টুনে ছিল প্রচ- ভিড়। গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন একেকজন। ঘাটে লঞ্চ আসামাত্র যাত্রীরা লঞ্চে উঠতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘাটে থাকলেও মানুষের ভিড়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা তাদের পক্ষে বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

শিমুলিয়া লঞ্চঘাট সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে ঘাট দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় অধিকাংশ যাত্রী লঞ্চে করেই পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। ফলে ঘাটে যাত্রীর চাপ লেগে আছে। কয়েক দিনের তুলনায় আজ চাপ আরো বেড়েছে। শত চেষ্টা করেও যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানানো যাচ্ছে না।

ইমরুল কাজী নামে এক যাত্রী জানান, তিনি নরসিংদীর একটি টেক্সটাইল মিলে কাজ করতেন। ঈদের ছুটি হয়েছে। তাই গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী যাচ্ছেন। সড়কের অবস্থা ভালো থাকলেও, ঘাটে এসে প্রচ- যাত্রীর চাপ দেখছি। যাত্রীর চাপে স্বাস্থ্যবিধি উধাও হয়ে গেছে। রেহানা বেগম নামে আরো এক যাত্রী বলেন, লঞ্চঘাটে প্রচ- ভিড়। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হচ্ছে না। গরমে কষ্ট করতে হচ্ছে। তারপরও ঈদে বাড়ি যাচ্ছি। এটা ভেবেই খুব ভালো লাগছে। শিমুলিয়া লঞ্চঘাটের সুপারভাইজার মো. শাহ আলম বলেন, ৮৪টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। আর মাত্র একদিন পর ঈদ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীদের লঞ্চে উঠতে বলা হচ্ছে। নৌ-পরিবহণ অধিদফতরের লঞ্চঘাট পরিদর্শক জহিরুল কাইয়ুম বলেন, ঘাটে যাত্রীদের প্রচ- চাপ রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে মাইকিং করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছে। তবে যাত্রীদের মধ্যে আইন মানতে অনীহা দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানানোর জন্য শতভাগ চেষ্টা করা হচ্ছে। লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন আহম্মেদ জানান, গার্মেন্টস, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ঈদের ছুটি হয়েছে। তাই ভোর থেকেই ঘাটে মারাত্মক যাত্রীর চাপ লেগে আছে। যাত্রীদের শতভাগ মাস্ক পরতে বলা হচ্ছে। এদিকে, ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ১৩ কিলোমিটার অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা। গতকাল সোমবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতীর পুংলি থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব টোলপ্লাজা পর্যন্ত অংশে যানজটের এ চিত্র দেখা গেছে। জানা গেছে, ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে প্রচুর গাড়ি আটকা থাকলেও ঢাকামুখী লেনে স্বাভাবিক গতিতে চলছে পরিবহণ। তবে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে থেমে থেমে চলছে যানবাহন। মূলত মহাসড়কের পুংলি, এলেঙ্গা, আনালিয়াবাড়ী, সল্লা ও জোকারচর এলাকায় যানজট বেশি। এ সময় ঈদে ঘরে ফেরা মানুষদের খোলা ট্রাকে করে যেতেও দেখা গেছে। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত জানান, আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে গাড়ির চাপ বাড়ছে। এতে কোথাও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করছে। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, টাঙ্গাইল অংশে যানজট নিরসনের জন্য ৬০৩ জন পুলিশ মহাসড়কে কাজ করছে। এর বাইরেও প্রায় ২০০ হাইওয়ে পুলিশ সদস্য কাজ করে যাচ্ছে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ১৬
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৪
আসর৪:১৯
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৬:০০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৩৮৭৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.