নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ২০ জুলাই ২০২১, ৫ শ্রাবণ ১৪২৮, ৯ জিলহজ ১৪৪২
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে নতুন পরিকল্পনায় আওয়ামী লীগ
কঠোর নজরদারিতে দলীয় এমপিরা
সফিকুল ইসলাম
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক তৎপরতার অংশ হিসেবে দলীয়ভাবে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে মন্ত্রী-এমপিদের ওপর। একইসাথে তাদের আমলনামা তৈরি করবে আওয়ামী লীগ। করোনাসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে দলীয় এমপিদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হবে। ভালো করলে ফলাফল ভালো পাবে আর খারাপ করলে শাস্তির আওতায় আনা হবে। যদিও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮০ শতাংশ ভোট পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছিল সরকারি দল আওয়ামী লীগ। এবার আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে পরিকল্পনা শুরু করেছে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা দল আওয়ামী লীগ। এরইমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রচারসহ তৃণমূলের নেতাদের দিকনির্দেশনা দেবে কেন্দ্রীয় নেতারা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সরকার ও দলের ভাবমূর্তি তুলে ধরা হবে। এছাড়াও সাংসদদের আমলনামা তৈরি হবে। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন সভাপতিম-লীর সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষমতাসীন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, নির্বাচনকেন্দ্রিক তৎপরতার অংশ হিসেবে দলীয়ভাবে কড়া নজরদারি রাখা হবে এমপিদের ওপর। তৈরি করা হবে তাদের আমলনামা। করোনাসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে দলীয় এমপিদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হবে। এ ছাড়া দলীয় নেতা ও সহযোগী সংগঠনের আরো অনেক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। দলের নেতারা জানান, এবার সংসদ সদস্য পদে দলের ত্যাগী ও তরুণ নেতাদের প্রাধান্য দেয়া হবে। এ ছাড়া জাতীয় ও উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক অ্যাকশনে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। সূত্রে জানা গেছে, কঠোর নজরদারিতে রয়েছেন মন্ত্রী-এমপিরা। তাদের সম্পদ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের খোঁজ রাখতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ গোয়েন্দা টিম। কারো দুর্নীতির প্রমাণ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিনিয়র মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন বলে কেউ-ই এ ক্ষেত্রে ছাড় পাবেন না। সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, গত দুই দশকের মধ্যে মন্ত্রী-এমপিদের এমন নজরদারির ঘটনা বিরল। জানা গেছে, টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের প্রতি কঠোর দৃষ্টি রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুর্নীতির প্রমাণ পেলে তিনি সাথে সাথে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতি ইতোমধ্যে এ ধরনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিগত মহাজোট সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বর্তমান মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন এমপিও রয়েছেন। শুধু তাই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার বা দুর্নীতি করলে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-এমপিদেরও একই পরিণতি বরণ করতে হবে। সরকার অতীতের ভুলত্রুটি শুধরে, জনগণের সেবা নিশ্চিত ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে সুনাম ও সফলতার সাথে সরকার পরিচালনা করতে চায়। ইতোমধ্যে মেট্রোরেল ও স্বপ্নের পদ্মা সেতুসহ বেশ কয়েকটি বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সে কারণে কারো অপকর্মের ভার কাঁধে নিতে চান না প্রধানমন্ত্রী। এরই মধ্যে মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের খোঁজখবর রাখতে গোয়েন্দা সংস্থার একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন দিচ্ছে ওই টিম। তারা সচিবালয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও তাদের পিএস-এপিএসদের কক্ষে প্রবেশকারীদের প্রতিও নজরদারি করছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, সরকারের অর্ধেকের বেশি সময় পার হয়েছে। এখন যে সময়টুকু আছে তা নির্বাচন প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় বলে আমি মনে করি। সেজন্য নির্বাচনকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে। এজন্য যে ধরনের প্রস্তুতি নেয়া দরকার তা আওয়ামী লীগ নিচ্ছে। বড় দল হিসেবে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমও অনেক বড়। তাছাড়া টানা ক্ষমতায় থাকার কারণে অনেক কিছুর ব্যাপ্তিও বেড়েছে। এসব দিক চিন্তা করে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতির কাজ শুরু করা হচ্ছে। এজন্য সবার আগে সাংগঠনিক তৎপরতাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তৃণমূল থেকে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমপি-মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতারা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন পাইয়ে দিতে চেষ্টা করছেন। এ চেষ্টায় ব্যর্থ হলে নানা কৌশলে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন। যার কারণে চলমান পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানের পরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। সে কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ। আগে বিভিন্ন নির্বাচনের সময় জয়ী হয়ে এলে বিদ্রোহী প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হতো। কিন্তু এবার তা দেয়া হচ্ছে না। প্রথম ধাপের নির্বাচনের সময় নেত্রকোনা জেলার এক পৌরসভায় আগের নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করা একজনকে মনোনয়ন দিয়েও তা পরবর্তীতে বাতিল করা হয়। দলীয় সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন কঠোর অবস্থানও তৃণমূল পর্যায়ে বিদ্রোহী প্রার্থী দমন করা যাচ্ছে না। যার ফলে মারামারি ও সহিংসতা দিন দিন বাড়ছে। এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দূরত্ব দিন দিন বেড়েই চলছে। নিজস্ব বলয় সৃষ্টি ও সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিভিন্ন গ্রুপ-উপ গ্রুপ এখনো সক্রিয় আছে। যার প্রভাব পড়েছে সদ্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনের মাঠে। দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীই নিজের শক্তি বা সামর্থ্য নিয়ে দলীয় প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন করতে পারে না। বিদ্রোহী প্রার্থীদের পেছনে দলের এক অংশের নেতাদের ইন্ধন ও সমর্থন থাকে। স্থানীয় এমপি-মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে না বললেও নির্বাচনের আগে-পরে একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়, কে কার সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় এমপি-মন্ত্রী ও জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের ইন্ধনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মনোনয়নবঞ্চিতরা। দলীয় বিদ্রোহী থাকায় ভোটের মাঠে পরাজিত হওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক শৃঙ্খলাও বিনষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, দিন বদলের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। তাই মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য অনিয়ম ও দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেবেন না দলীয়প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিগত মন্ত্রিসভায় যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের এবার রাখা হয়নি। প্রসঙ্গত, সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৫৭টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। সবমিলিয়ে মাত্র ৭টি আসনে জয় পায় ধানের শীষের প্রার্থীরা; তাদের চেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম অংশীদার জাতীয় পার্টি ২২টি। এই ২২টি আসন নিয়ে দৃশ্যত সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে হয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের দল জাতীয় পার্টিকে। তবে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি একাদশ নির্বাচনে ভোটে অংশ নিলেও সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনেও ফিরতে পারেনি।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ২৯
ফজর৪:০৩
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৩
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:২৬সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২০৪৯৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.