নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ২০ জুলাই ২০২১, ৫ শ্রাবণ ১৪২৮, ৯ জিলহজ ১৪৪২
রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে দাম নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ক্রেতা-বিক্রেতার
বেশিরভাগ ক্রেতার চাহিদা মাঝারি ও ছোট আকৃতির গরুর
জাহাঙ্গীর খান বাবু
রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। এ অবস্থায় সময় যত ঘনিয়ে, ততই জমজমাট হয়ে উঠছে রাজধানীর পশুর হাটগুলো। গতকাল সোমবার বেচাকেনা শুরুর তৃতীয় দিনে ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায়ও মুখরিত ছিল হাটগুলো। ছোট ও মাঝারি গরু বিক্রি হলেও সেগুলোও আশানুরূপ দাম পাওয়া যাচ্ছে না বলে ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা ছিল না বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই। সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত ৪৬টি শর্তের অধিকাংশই মানা হচ্ছে না। কোথাও কোথাও কিছুটা তদারকি দেখা গেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এ অবস্থায় সচেতন ব্যক্তিরা হাটে পশু কিনতে গিয়েও স্বাস্থ্যবিধি না থাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। হাট ঘুরে দেখা যায়, পশুর দরদাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিক্রেতারা বলছেন, অধিকাংশ ক্রেতাই নির্দিষ্ট দামের চেয়ে অনেক কম দাম বলছেন। আর ক্রেতারা বলছেন, হাটের শুরু থেকেই বেশি দাম হাঁকছেন বিক্রেতা। দাম বেশি হওয়ায় ছোট ও মাঝারি গরু কিনতে হচ্ছে।

গতকাল সোমবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর আফতাব নগর পশুর হাটে ঝিনাইদহের হরিণাক-ু থেকে আসা ব্যাপারী বিপ্লব জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতারা গরুর দাম কম বলছেন। এখন পর্যন্ত বড় গরুর ক্রেতাই আসেনি। তবে ছোট ও মাঝারি গরু বিক্রি হলেও সেগুলোও আশানুরূপ দাম পাওয়া যাচ্ছে না। একই কথা জানান চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা আব্দুল লতিফ। তিনি ২ থেকে ৩ লাখ টাকা মূল্যের চারটি গরু এনেছেন এই হাটে। এখন পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি।

তিনি বলেন, বড় গরু সব সময় শেষের দিকে বিক্রি হয়। এখন ক্রেতারা বাজার যাচাইয়ে আসছেন, পরে কিনবেন। কুষ্টিয়ার আকমল ব্যাপারী জানান, সব ধরনের গরু যেমন বাজারে এসেছে, তেমনই ক্রেতার আগমনও ভালো। তবে ক্রেতারা এখন দাম কম বলছেন, যা আশা ছিল তেমন পাচ্ছি না। তবে গরু বেশি হওয়ায় লাভ কম রেখেই ছেড়ে দিচ্ছি। উত্তর শাজাহানপুর থেকে আসা হাজী আব্দুস সবুর বলেন, ব্যাপারীরা এবার অনেক দাম চাইছেন। এ কারণে এখনো কেনা হয়নি, তবে আরো কয়েকটি হাট দেখেই বড় গরু কিনবো। ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছেন চামেলীবাগের ইয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিক্রেতারা দাম বেশি বলছেন। তবুও কিনতে হবে, তাই আগেভাগেই গরু কিনেছি। আবহাওয়া কখনো ভালো, আবার কখনো খারাপ হচ্ছে কয়েক দিন ধরে। তাই সবকিছু বিবেচনা করে আগেই কিনেছি। তবে অন্যবারের চেয়ে দাম কিছুটা বেশি। অন্যদিকে এই হাটের একপাশে উঠেছে ছাগল। তবে এখনো ছাগল বিক্রি জমে ওঠেনি। বিক্রেতারা বলছেন, হাটে ছাগল আনা শুরু হয়েছে। আজ রাতে বিক্রি জমে উঠবে বলে আশা করছেন তারা। বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর মেরাদিয়া পশুর হাটে দেখা গেছে ক্রেতাদের ভিড়। দাম বেশি হওয়ায় বেশিরভাগ ক্রেতার চাহিদা মাঝারি ও ছোট আকৃতির গরুর দিকে। গরু কিনতে আসা খিলগাঁয়ের মোর্শেদ মিয়া জানান, অধিকাংশ বিক্রেতাই গরুর দাম অনেক বেশি হাঁকছেন। গত বছর যে সাইজের গরু কিনেছি ৬০ হাজার টাকায় এবছর ঠিক সে সাইজের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা। এনিয়ে কয়েকজন বিক্রেতার সাথে কথা হলে তারা জানান, গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা এদিক সেদিক হতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্রেতাই দাম অনেক কম বলছেন। এদিকে শাহজাহানপুরের অস্থায়ী হাটে সকাল থেকেই ট্রাকে ট্রাকে গরু ছাগল আসতে দেখা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায় বেচাকেনার ধুম পরেছে । ৬৬ হাজার টাকায় ছোট সাইজের একটি গরু কিনেন তালতলার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, গেল বছর এরচেয়ে বড় সাইজের গরু কিনেছি ৬০ হাজার টাকায়। এবছর বাজেটের সাথে গরু মিলাতে অনেক কষ্ট হয়ে গেছে। ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় গরু কিনেছেন বাসাবোর মানিক মিয়া। তিনি জানা, বড় গরুর দাম কিছুটা ঠিক আছে তবে গত বছরের চেয়ে একটু বেশি। একই চিত্র ছিল ধূপখোলা ও যাত্রাবাড়ীর হাটেও। বিভিন্ন হাটে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন বলেন, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে বার বার অনুরোধ করছি আমরা। পর্যাপ্ত পরিমাণে মাস্ক ও স্যানিটাইজার দিচ্ছি। এবার বেচাকেনা নিয়ে আমরা খু্ব আশাবাদী।

এদিকে এবার হাটগুলোর জন্য সিটি কর্পোরেশনের শর্ত অনুযায়ী হাটে মাস্ক, সাবান, জীবাণুমুক্তকরণ সামগ্রীর ব্যবস্থা করবেন ইজারাদার। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সবার ব্যক্তিগত সুরক্ষা জোরদার করা ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়ার কথা সার্বক্ষণিক মাইকে প্রচার করতে হবে। হাটে প্রবেশের সময় গ্রাহক চাইলে তাকে বিনামূল্যে মাস্ক দিতে হবে। মাস্ক ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেয়া যাবে না। পর্যাপ্ত পানি ও বিস্নচিং পাউডার দিয়ে পশুর বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। একটি পশু থেকে আরেকটি পশু এমনভাবে রাখতে হবে যেন ক্রেতাদের মধ্যে তিন ফুট দূরত্ব থাকে। ভিড় এড়াতে মূল্য পরিশোধ ও হাসিল আদায় কাউন্টারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। মূল্য পরিশোধের সময় সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে রেখা টেনে বা গোল চিহ্ন দিয়ে দিতে হবে। হাটের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী পশু ঢোকাতে হবে। কিন্তু বেশির ভাগ হাটেই ভঙ্গ হচ্ছে এসব শর্ত। ইজারাদাররা হাসিল আদায় ছাড়া অন্য কিছুতে তেমন গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ডিএনসিসি এলাকায় স্থাপিত পশুর হাট সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মফিজুর রহমানকে আহ্বায়ক করে ১৫ সদস্যের একটি মনিটরিং টিম কাজ করছে। এই কমিটিতে ১৩ জন কাউন্সিলর এবং দুই জন ভেটেরিনারি কর্মকর্তা রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত প্রত্যেকটি পশুর হাটেই সরকারি নির্দেশনাসহ স্বাস্থ্যবিধিসমূহ প্রতিপালনে ডিএনসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ২৫
ফজর৪:০০
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৮
এশা৮:০৯
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৯২২১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.