নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা,সোমবার ৫ আগস্ট ২০১৩, ২১ শ্রাবন ১৪২০, ২৬ রমজান ১৪৩৪
ঈদ পরবর্তী রাজনীতি
শিউল মনজুর


ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচাইতে খুশির উৎসব বা প্রধান উৎসব। একমাস রোজা রাখার পর বা সিয়াম সাধনার পর মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে মুসলিম সমাজ এই উৎসব পালন করে। ক্যালেন্ডারের ৯ অথবা ১০ আগস্ট আকাশে বাঁকা চাঁদের হাসি দেখে এ দেশের মুসলিম সমাজ তাদের প্রধান উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে। বাংলাদেশের নব্বইভাগ মানুষ মুসলিম। যদিও এই উৎসব মুসলমানদের তথাপি সমাজের অন্যান্য ধর্মালম্বীরাও এই উৎসবের আনন্দ বেশ উপভোগ করে। বিশেষ করে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে যে ব্যবসায়িক বা অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় সেখানে অন্যান্য ধর্মালম্বীরাও ওতোপ্রতোভাবে জড়িত থাকে। পাশাপাশি এই ভূখ-ের বাঙালি সমাজ আদি থেকেই উৎসব প্রিয়। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকল ধরনের পবিত্র উৎসবেই তারা নানাভাবে শরিক থাকে বলে উৎসবগুলো সবসময় আনন্দময় হয়ে ওঠে। এই ঈদুল ফিতর উৎসবটিও প্রতি বৎসর সকল সমপ্রদায়ের অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে আনন্দের বিশেষ মাত্রা পায়।

কিন্তু এবারের উৎসবটিকে ঘিরে সারাদেশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতিকর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। মূলত রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণেই এই উৎকণ্ঠা জনমনে গেঁথে বসেছে। ঘর থেকে বের হলে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বললে এই উৎকণ্ঠার তাপ অনুভব করা যায়। ১৩ সালের শুরু থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে এদেশের রাজপথ গরম হয়ে ওঠে। গুম হত্যা দুর্নীতি গ্রেফতারসহ তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে জাতি এই কয়েকমাসে অসংখ্য হরতাল উপভোগ করেছে। সামপ্রতিক সময়ে এই পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই মানুষ চারদিন হরতালের কষ্টকর দিন অতিবাহিত করেছে।

ইতোমধ্যে বিএনপি ও তার শরীক দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে জোরেসোরে নামবে বলে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে ঘোষণা দিচ্ছে। অন্যদিকে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি আমলের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে জনসমক্ষে সভা-সেমিনার করবে বলে ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া যুদ্ধপরাধীদের বিচার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ঈদের পরপরই কয়েকজন যুদ্ধপরাধীর রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক বিচার ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রবাসীদর আয়োজিত বিভিন্ন সভা-সেমিনারে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখছেন। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক বিষয়টি প্রসঙ্গে তিনি বক্তব্য দিচ্ছেন। আবার প্রধানমন্ত্রী হাসিনাপুত্র ওয়াজেদ জয়ও বিভিন্ন সভায় আওয়ামী লীগের পক্ষে নৌকায় ভোট দেয়ার জন্যে জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছেন। ফলশ্রুতিতে ঈদের পরে নয়, ঈদের আগেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় দুইদলের প্রতিযোগিতার উত্তাপ সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করেছে। এসব কারণ ছাড়াও প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনকে গরম করে রাখছে বলে এবারের ঈদ ও ঈদ পরবর্তী সময়কে নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিশেষ করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশ্নে বড় দুই দলের অনড় অবস্থান দেশের মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে বলে আশংকা করছেন। এই ধরনের আশংকা থাকার কারণে এবারের ঈদ উৎসব ততটা হাসি ছড়াতে পারবে না বলে মানুষজন ধারণা করছেন বা বলা যায় অন্য সময়ের তুলনায় এবারের ঈদ উৎসবে খুশির মাত্রা থাকবে কিছুটা হলেও কম।

তারপরেও সামনে যেহেতু সংসদ নির্বাচনের একটি বিষয় রয়েছে সে কারণে এই উৎসবকে সামনে রেখে সবদলের অসংখ্য রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা এবার ঢাকা ছাড়বেন। ঈদের ছুটি কাটাবেন সাধারণ মানুষের সাথে গ্রামে-গঞ্জে। এখানে ঈদের নির্মল আনন্দ উৎসবের বিষয়টি তেমন প্রাধান্য পাবে না। সেমাই খেতে খেতে চায়ের আসরে ঘুরে ফিরে আলোচনা হবে আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গ নিয়ে। তত্ত্বাবধায়ক যদি ফিরে না আসে তবে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না? অথবা যদি না যায় হাসিনা কি বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করবেন? বিএনপি ছাড়া যদি নির্বাচন হয় তবে এ নির্বাচন কি জনগণ মেনে নেবে? ইত্যাদি বিষয় সাধারণ মানুষের আলোচনায় উঠে আসবে। আরো আলোচনায় উঠে আসতে পারে পদ্মাসেতু দুর্নীতি, সাগর-রুনি হত্যাকা-, ইলিয়াছ আলী ঘুম, সাবেক রেলমন্ত্রীর দুর্নীতি. সাভার ট্র্যাজেডি, মতিঝিল অপারেশন, হেফাজত ইসলামের পরবর্তী কর্মসূচি, গণজাগরণ মঞ্চ, আদালত কর্তৃক জামায়াত এর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা, আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, সংসদ সদস্য রণি ও সর্বশেষ মিল্কি হত্যাকা- প্রসঙ্গ ইত্যাদি।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে ঈদ পরবর্তী রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা হবে বেশি এবং মানুষজন দেশের এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আশংকা প্রকাশ করবেন, প্রকাশ করবেন নেতাদের ভূমিকা নিয়ে হতাশা। তারপরেও সাধারণ মানুষ তাদের ক্ষুদ্র জ্ঞানে মনে করে এই রাজনৈতিক সংঘাত এড়ানো যেতে পারে সহজেই। যেহেতু হাসিনা-খালেদাকে কেন্দ্র করেই বড় দু'দলের রাজনৈতিক কর্মকা- আবর্তিত হয় সেহেতু দুই নেত্রী যদি ঈদের আগে বা ঈদের পরপরই বর্তমান সঙ্কট নিয়ে মুখোমুখি আলোচনায় বসেন তবে সমস্যা সমাধানের একটা পথ ঠিকই বেরুবে এবং দেশ ভবিষ্যত সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসবে। তৃতীয় কোন শক্তিরও আসার সম্ভাবনা থাকবে না। গণতন্ত্রের পথে দেশ এগিয়ে যাবে। এই সময় গোটা দেশের মানুষ কিন্তু দুই নেত্রীর ভূমিকার দিকে তাকিয়ে থাকবে। বলা যায় তাকিয়েই আছে। এখন যদি তারা দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে, সকল তিক্ততা ভুলে পরস্পর মুখোমুখি হন তাহলে নিশ্চিত যে, দেশ গণতন্ত্রের সুন্দর সড়কে এগিয়ে যাবে।

শিউল মনজুর : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
Jobs in Bangladesh
Jobs in Bangladesh
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ৫
ফজর ৪:০৮
যোহর ১২:০৫
আসর ৪:৪২
মাগরিব ৬:৪২
এশা ৮:০১
সূর্যোদয় - ৫:৩০সূর্যাস্ত - ০৬:৩৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৯৪
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদকঃ আহ্‌সান উল্লাহ্॥ প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত এবং সড়ক ৩১, বাড়ি ২৩, গুলশান, ঢাকা-১২১২ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০। ফোনঃ ৮৩১৫১১৫ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.