নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩১ ভাদ্র ১৪২৮, ৬ সফর ১৪৪৩
শ্রেণীকক্ষে উচ্ছ্বাস বাইরে উৎকণ্ঠা
স্বাস্থ্যঝুঁকির চেয়ে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বেশি অনেক অভিভাবকের মধ্যে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়ে অনীহা * স্কুল গেটে অভিভাবকদের ভিড়
স্টাফ রিপোর্টার
করোনার প্রকোপের কারণে প্রায় দেড় বছর বাজেনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঘণ্টা, হয়নি শ্রেণীকক্ষে পাঠদান। অনলাইনে ক্লাস চললেও ছিল না শিক্ষার্থীদের পদচারণা। নিস্তব্ধতা ভেঙে গত রোববার থেকে শুরু হয়েছে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান। দীর্ঘদিন পর ক্লাসে ফেরায় উচ্ছ্বসিত ঘরবন্দি থাকা শিক্ষার্থীরা। করোনার সংক্রমণ কমে এলেও উদ্বেগ এখনো কাটেনি। তাই শিক্ষার্থীদের ক্লাসে পাঠিয়ে বাইরে অপেক্ষায় থাকছেন উৎকণ্ঠিত অভিভাবকরা।

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহের যেমন অন্ত নেই তেমনি অভিভাবকদের উৎকণ্ঠারও শেষ নেই। সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে স্কুল-কলেজগুলোর গেটে ভিড় করছেন অভিভাবকরা। স্বাস্থ্যঝুঁকির চেয়ে সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়টিই বড় করে দেখছেন তারা।

ঢাকার প্রায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনেই অভিভাবকদের ভিড় দেখা গেছে। মাস্ক পরায় শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে দেখা গেলেও বেশিরভাগ অভিভাবকের মধ্যে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়ে অনীহা দেখা গেছে। দেখা যায়, ঢাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে ও গেটের বাইরে শিক্ষার্থীদের জন্য করোনা বুথ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্কের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরমধ্যে সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা সেন্ট্রাল গার্লস হাই স্কুল, ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা গভ. মুসলিম হাই স্কুল ও কবি নজরুল সরকারি কলেজে এ ব্যবস্থা দেখা গেছে। আবার এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে উৎসুক অভিভাবকদের ভিড়ও রয়েছে। সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে অবস্থানরত আমেনা বেগম নামে একজন অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে অর্ণব এখানের ছাত্র। দীর্ঘদিন পর করোনা সংক্রমণের মধ্যে যেহেতু স্কুল খোলা হয়েছে তাই সাথে করে নিয়ে এসেছি।

মাইমুনা আক্তার নামে আরেকজন অভিভাবক বলেন, আসলে এখানে সবাই সন্তানের নিরাপত্তার স্বার্থেই ভিড় করেছেন। আমার মেয়ে বেশ বড় হয়েছে। ওকে একা আসতে দিতে পারি না। তাছাড়া অভিভাবকদের জন্য যদি স্কুল কর্তৃপক্ষ বসার আলাদা ব্যবস্থা করে দেয় এভাবে আমাদের জটলা করে দাঁড়িয়ে থাকা লাগতো না। ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে শারমিন এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। স্কুলে যাতায়াতের পথে কিছু ছেলে তাকে ডিসটার্ব করে। আমি সাথে আসলে মেয়েটার মনে সাহস থাকে। করোনার ভয় থাকলেও মেয়ের কথা চিন্তা করে এখানে রোদের মধ্যে অপেক্ষা করছি। এখানে স্বাস্থ্যঝুঁকির চেয়ে আমার মেয়ের নিরাপত্তা বেশি জরুরি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হওয়ার তৃতীয় দিনে রাজধানীর স্কুল-কলেজগুলোর সামনে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থী শ্রেণী পাঠদানে অংশ নিচ্ছে। এজন্য গতকালও অনেকেই প্রথম এসেছে স্কুলে। দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে সাক্ষাতে সবার মুখেই হাসি। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও এতে খুশি হলেও রয়েছেন উৎকণ্ঠায়।

রাজধানীর ধানমন্ডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটে গিয়ে দেখা যায় অপেক্ষা করছেন অভিভাবকরা। তারা বলছেন, সন্তানরা স্কুলে ফেরায় তারা একই সঙ্গে স্বস্তি এবং উৎকণ্ঠায় আছেন। স্বস্তি লেগেছে স্কুলের প্রতি সন্তানের উচ্ছ্বাস দেখে। আর তাদের উৎকণ্ঠা হচ্ছে- করোনা পরিস্থিতিতে কীভাবে ক্লাস হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি পালন করা হচ্ছে কিনা, পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে। সরকারের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক জানান, খোলার প্রথম পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলবে চার ঘণ্টা করে। এ সময় শিক্ষক-কর্মচারীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করবেন। তবে প্রত্যেক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তিনটি করে ক্লাস নেয়া হবে। খোলার দিন থেকে প্রত্যেক দিন ২০২১ ও ২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসবেন। প্রতিদিন রুটিন অনুযায়ী ক্লাস নেয়া হবে। এছাড়া অন্যান্য শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা রুটিন অনুযায়ী সপ্তাহের এক দিন করে বিদ্যালয়ে যাবেন এবং রুটিন অনুযায়ী ক্লাসে অংশ নেবেন। ধানমন্ডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের রুটিন অনুযায়ী সোমবার দ্বিতীয় শ্রেণীর ক্লাস হয়েছে ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। জোড়-বেজোড় রোল অনুযায়ী আলাদাভাবে ভাগ করা হয়েছে শাখা, তাই দুইভাগে ক্লাস হচ্ছে। এছাড়া রুটিন অনুযায়ী আজ ষষ্ঠ শ্রেণীর ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন স্কুলে দেখা যায়, সন্তানদের স্কুলের গেট পর্যন্ত নিয়ে আসেন অভিভাবকরা। স্কুলের গেট দিয়ে প্রবেশের পর তাপমাত্রা পরীক্ষা করেন দায়িত্বরত কর্মী। তারপর হাত ধোয়ার জায়গা দেখিয়ে দেন তারা। শিক্ষার্থীরা হাত ধুয়ে প্রবেশ করেন বিদ্যালয়ের ভেতরে। স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, কিছুদূর পর পর বৃত্তাকার চিহ্ন আঁকা আছে। শ্রেণি কক্ষের কাছে গিয়ে দেখা যায় বেঞ্চে তিনজনের বসার ব্যবস্থা থাকলেও মাঝখানে ক্রস চিহ্ন দেয়া আছে যাতে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে এক বেঞ্চে দু'জন বসতে পারে।

এক অভিভাবক বলেন, সব ঠিক আছে। বাইরে থেকে তো আর দেখা যায় না-ভিতরে কীভাবে কী হচ্ছে। আমরা তো যেতে পারি নাই, আপনারা চাইলে ঢুকে দেখতে পারেন। এক শিক্ষার্থীর বাবা নিজাম উদ্দিন বলেন, স্কুলের টয়লেটগুলো অপরিষ্কার ছিল, পরে পরিষ্কার করলো কিনা জানি না। অনেক সময় অপরিষ্কার আর দুর্গন্ধ থাকায় বাচ্চারা যেতে চায় না। আপনারা ঢুকলে আমাদের জন্য ভালো, আপনারা (সাংবাদিকরা) ঢুকলে আমরা জানতে পারবো-বাচ্চারা কীভাবে ক্লাস করছে। বিদ্যালয়ের ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে এক শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে আসে এবং আরেক শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ক্লাসে প্রবেশের প্রস্তুতি নেয়। বেরিয়ে আসার সময় শিক্ষার্থীদের মুখে ফোঁটা হাসিই অভিভাবকদের জানান দেয় তারা কতটা উচ্ছ্বসিত। দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রুফাই জামানের মা রিমু জামান বলেন, স্কুল খোলায় আমাদের বাচ্চা এতো খুশি যে ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। একদিন আগে থেকেই তারা উচ্ছ্বসিত এবং অপেক্ষা করছে কখন স্কুলে যাবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২২
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৩৬৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.